দিয়াজের ‘ম্যাজিক মুহূর্তে’ রিয়াল বিদায়, প্রশংসায় ভাসালেন কেইন
শেষ মুহূর্তের এক ঝলক জাদু, আর তাতেই বদলে গেল পুরো গল্প। মিউনিখের রাতটা যেন লিখে রাখল সেই চিরন্তন সত্য, ফুটবল এক অনিশ্চয়তার খেলা। আর সেই মুহূর্তের নায়ক লুইস দিয়াজকে প্রশংসায় ভাসালেন সতীর্থ হ্যারি কেইন। তার মতে এই 'ম্যাজিক মুহূর্ত'ই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ নাটকীয়ভাবে বিদায় করেছে রিয়াল মাদ্রিদকে। প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বায়ার্ন দ্বিতীয় লেগে একাধিকবার পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ায়। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে দিয়াজের গোলেই এগিয়ে যায় তারা, আর যোগ করা সময়ে মাইকেল ওলিসের আরেকটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় জার্মান জায়ান্টরা।
ম্যাচ শেষে কেইন বলেন, 'শেষ ২০ মিনিটেও আমার মনে হচ্ছিল আমরাই কিছু একটা ঘটানোর চেষ্টা করছি। তারা একটু ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল, আর এমন সময়ে একটা মুহূর্তই সবকিছু বদলে দিতে পারে, একটা অসাধারণ শট বা পাস। আজ সেটাই হয়েছে। লুচো (দিয়াজ) আর মাইকেল (ওলিসে) দুর্দান্তভাবে ম্যাচটা শেষ করেছে।'
পুরো ম্যাচজুড়ে ওঠানামার মধ্যেও ধৈর্যই ছিল বায়ার্নের বড় শক্তি বলে মনে করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থেকে শেষ দিকে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতাই জয় এনে দিয়েছে তাদের।
'আমরা জানতাম ম্যাচ যত এগোবে, আমরা তত শক্তিশালী হবো। শেষ ১০-১৫ মিনিটে আমরা এই মৌসুমে খুব শক্তিশালী ছিলাম, আজও সেটাই হয়েছে,' যোগ করেন কেইন।
এই ম্যাচে গোল করে ইতিহাসও গড়েছেন কেইন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে ১৯৩০-৩১ মৌসুমের পর প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন তিনি।
তার ভাষায়, 'এটা শুধু আমার নয়, পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফল। সতীর্থদের ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।'