ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়ন অ্যাস্টন ভিলা

স্পোর্টস ডেস্ক

ইউরোপা লিগের ফাইনালে অ্যাস্টিন ভিলার কাছে পাত্তাই পায়নি ফ্রাইবুর্গ। বুধবার রাতে কে ৩-০ গোলে জিতে দীর্ঘ ৩০ বছরের শিরোপা খরা কাটাল দলটি। সেই সঙ্গে কোচ উনাই এমেরি নিজের ঝুলিতে তুললেন রেকর্ডগড়া পঞ্চম ইউরোপা লিগ শিরোপা।

ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে গোল করেছেন ইউরি তিলেমান্স, এমিলিয়ানো বুয়েনদিয়া ও মর্গান রজার্স। ১৯৯৬ সালে ইংলিশ লিগ কাপ জেতার পর এটাই ভিলার প্রথম বড় কোনো ট্রফি। এমনকি ১৯৮২ সালে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের পর, দীর্ঘ ৪৪ বছর পর মহাদেশীয় কোনো প্রতিযোগিতায় এটি তাদের প্রথম জয়।

ম্যাচ শেষে টিএনটি-কে তিলেমান্স বলেন, ‘অনুভূতিটা দারুণ। পুরো মৌসুমে আমরা অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছি। খুবই বাজেভাবে শুরু করেছিলাম, কিন্তু কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। শেষে এসে এমন সাফল্য সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটে তিলেমান্সের চমৎকার এক ভলিতে এগিয়ে যায় ভিলা। এর ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই বুয়েনদিয়া বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে জড়ালে প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে রজার্স দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করলে ফ্রাইবুর্গের আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ থাকেনি।

ইউরোপা লিগ জয়ে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখলেন অ্যাস্টন ভিলা কোচ উনাই এমেরি। এর আগে সেভিয়ার হয়ে তিনবার ও ভিলারিয়ালের হয়ে একবার এই শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে কার্লো আনচেলত্তি, হোসে মরিনহো এবং জিওভান্নি ত্রাপাত্তোনির মতো কিংবদন্তি কোচদের পাঁচটি ইউরোপীয় ট্রফি জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসালেন এমেরি।

অন্যদিকে, ১২২ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় কোনো শিরোপার স্বপ্ন দেখেছিল ফ্রাইবুর্গ। তবে শক্তিশালী অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। দলের হতাশাজনক হারের পর ফ্রাইবুর্গের উইঙ্গার ভিনচেঞ্জো গ্রিফো বলেন, ‘আমরা কাপটা জিততে চেয়েছিলাম, কিন্তু অ্যাস্টন ভিলার মতো ক্লাসের দলের বিপক্ষে পেরে ওঠা কঠিন ছিল। তাদের খেলোয়াড়রা যে সুযোগ পেয়েছে তা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে।’

এই জয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে প্রিমিয়ার লিগের আধিপত্য আরও জোরালো হলো। গত মৌসুমে টটেনহ্যাম হটস্পার এই শিরোপা জেতার পর এবার জিতল ভিলা। এখন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনাল এবং কনফারেন্স লিগের ফাইনালে ক্রিস্টাল প্যালেস খেলবে, ফলে ইংল্যান্ডের সামনে এক বিরল মহাদেশীয় ট্রফি ‘হ্যাট্রিক’-এর হাতছানি।