অনুশীলনে বিঘ্ন ঘটলেও লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছে না বাংলাদেশ
সকালের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিলো মাঠ, সেখানেই অনুশীলন করতে হয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। ড্রেসিংরুমের সুযোগ-সুবিধা ভালো না থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ফলে মূল অনুশীলন শুরুর আগে খেলোয়াড়দের খোলা জায়গায় কিছুক্ষণ সময় কাটাতে হয়।
মাঠের বাজে অবস্থা আর অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের ভিড়ে মঙ্গলবার বাম্বোলিম অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ নারী দলের অনুশীলন পরিকল্পনায় কিছুটা ওলটপালট হয়ে যায়। তবে মালদ্বীপের বিপক্ষে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচের আগে সব বাধা পেরিয়ে প্রস্তুতিতে মন দিয়েছেন সাবিনারা।
বাংলাদেশ দল চেয়েছিল ক্লোজড-ডোর (সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকারহীন) অনুশীলন করতে। কিন্তু মাঠে অন্য অ্যাথলেট ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির কারণে প্রধান কোচ পিটার বাটলারকে তার আগের পরিকল্পনা বদলাতে হয়। শেষ পর্যন্ত পজিশনাল স্ট্রাকচার, ট্যাকটিক্যাল দিক এবং রক্ষণ ও আক্রমণের ধার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে সেশন শেষ করেন কোচ।
ভ্যাপসা গরম আর প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও খেলোয়াড়দের মাঝে কোনো ঢিলেমি ছিল না। আগামী ২৮ মে উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছেন তারা। মালদ্বীপের বিপক্ষে ভারতের ১১-০ গোলের বড় জয়টির কথাও মাথায় রাখছে বাংলাদেশ। কারণ 'বি' গ্রুপে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গোল ব্যবধান বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুশীলন শেষে ফরোয়ার্ড শাহেদা আক্তার রিপা বলেন, ‘শিরোপা ধরে রাখতে আমরা প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ভারত যেহেতু মালদ্বীপকে ১১ গোল দিয়েছে, আমাদের লক্ষ্য থাকবে তাদের চেয়ে বেশি গোল করার। বিশ্বাস করি, ২৮ মে আমরা ভালো কিছুই করব।’
ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকায় বাংলাদেশ এটাও জানে যে, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। অন্য ম্যাচে, শ্রীলঙ্কাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে নেপাল।
আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত ও নেপালের শক্তির কথা মেনে নিয়েও থাইল্যান্ডের কন্ডিশনিং ক্যাম্পকে নিজেদের বড় শক্তি মানছেন রিপা। গোয়ায় আসার আগে থাইল্যান্ডে ১৫ দিন কাটিয়েছেন তারা, খেলেছেন দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। ফলে ওখানকার গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজটা আগেই সেরে রেখেছে দল।
রিপা বলেন, ‘সন্দেহ নেই নেপাল ও ভারত শক্তিশালী এবং অন্য দলগুলোর চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে থাইল্যান্ডে ১৫ দিনের ক্যাম্প করায় আমরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছি। তাই ভালো করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
আঞ্চলিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগের চেয়ে বাড়লেও বাংলাদেশের মেয়েদের লক্ষ্য একটাই—টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের ঐতিহাসিক শিরোপা ঘরে তোলা।
অবশ্য অনুশীলনের মাঠ নিয়ে একদমই মাথা ঘামাতে চান না ডিফেন্ডার শিউলি আজিম। তার মতে, মানিয়ে নেওয়াটাই আসল।
শিউলি বলেন, ‘হ্যাঁ, থাইল্যান্ডে যে মাঠে আমরা অনুশীলন করেছি, তার তুলনায় এই মাঠটি বেশ খারাপ ছিল। তবে অনুশীলনের সময় আমরা মানিয়ে নিয়েছি, তাই সমস্যা হয়নি।’
তার মতে, ‘অতীতে আমরা কী করেছি, তা ভুলে যেতে হবে। এবার নেপাল আর ভারতই ফেভারিট, আমরা নই। তবে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার লড়াইয়ে আমরা কোনো কমতি রাখব না।’