মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু হলো জয় দিয়েই। তবে শুধু জয় নয়, গোলের রোমাঞ্চ আর আক্রমণাত্মক ফুটবলে মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নারী দল।
গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে পিটার বাটলারের দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি শেষ চারে জায়গা পাকাপাকি করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এর আগে স্বাগতিক ভারতের কাছে ১১-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল মালদ্বীপ। ফলে টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তাদের।
মালদ্বীপের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ডও ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। দুই দলের পাঁচ দেখাতেই জয় পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার গ্রুপ ‘বি’-তে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ৩১ মে ভারতের বিপক্ষে। সেই ম্যাচের জয়ী দলই সম্ভবত তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাবে সেমিফাইনালে।
ম্যাচের শুরুতেই ঝড় তোলে বাংলাদেশ। খেলা শুরুর মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে বসেন সুইডেনপ্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। ঋতুপর্ণা চাকমার নিচু ক্রস থেকে বল জালে পাঠিয়ে টুর্নামেন্টের দ্রুততম গোলগুলোর একটি উপহার দেন তিনি। শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে মালদ্বীপকে চেপে ধরে বাংলাদেশ।
একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের ব্যবধান বাড়াতে কিছুটা ভুগছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উমেহলা মারমা। শামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো বল ডান দিক থেকে নিচু শটে জালে জড়ান তিনি।
তবে ম্যাচের ধারার বিপরীতে ফিরে আসে মালদ্বীপ। মাঝমাঠে বাংলাদেশের ভুল থেকে বল পেয়ে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শট নেন মারিয়া নুরা। বল ক্রসবারের নিচে লেগে গোললাইনের ভেতরে ঢুকে যায়। কিছুক্ষণ অনিশ্চয়তার পর সহকারী রেফারি গোলের সংকেত দিলে ব্যবধান কমায় মালদ্বীপ।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতেই। কিন্তু ৫৭তম মিনিটে আবারও চমকে দেয় মালদ্বীপ। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে নিচু শটে গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে পরাস্ত করেন আমিনাথ ফাজলা।
সমতায় ফেরার পর দ্রুত পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার বাটলার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নামান সৌরভী আকন্দ প্রীতি ও সাগরিকাকে। পরে মাঠে আসেন শাহেদা আক্তার রিপা ও তহুরা খাতুনও। কোচের এই পরিবর্তনই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়।
৬৪তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার বিপজ্জনক ক্রস মালদ্বীপ গোলরক্ষক ফাতিমাথ সাওসান ঠিকভাবে ধরে রাখতে না পারলে খুব কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দেন সৌরভী আকন্দ প্রীতি।
শেষ দিকে এসে নিজের দারুণ পারফরম্যান্সে আরেকবার ছাপ রাখেন ঋতুপর্ণা চাকমা। যোগ করা সময়ে তার নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করেন কহাতি কিসকু। তাতেই ৪-২ গোলের দারুণ এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।