মাথা উঁচু করে থাকো: আর্জেন্টিনার হারের পর মেসির বার্তা
আর্জেন্টিনার জন্য রোববারের রাতটা ছিল বিষাদে মোড়া। সান্তিয়াগোর আলোয় ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা তুলে নিয়েছে মরক্কো। তখন হাজার মাইল দূরে বসে এক মানুষ লিখে ফেললেন বেদনার মধ্যেও গর্বের বার্তা। তিনি লিওনেল মেসি।
'মাথা উঁচু করে থাকো, ছেলেরা!' ইনস্টাগ্রামে শুরুটা এমনই।
'তোমরা দুর্দান্ত খেলেছো। সবাই চেয়েছিল তোমাদের হাতে কাপ দেখতে, কিন্তু যা রেখে গেলে, তার মূল্যবান আরও বড়। তোমাদের নিঃস্বার্থ চেষ্টা, আর আকাশি-সাদা জার্সিটা হৃদয় দিয়ে রক্ষা করার গর্ব।'
একদিন আগেই ইন্টার মায়ামির হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি। কিন্তু এই রাতে তার মন ছিল নিজের দেশের তরুণদের পাশে, যারা ফাইনালে থেমে গেছে গৌরবের এক ধাপ দূরে।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই তিনি অনুসরণ করেছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাফল্য। সেমিফাইনালে কলম্বিয়াকে হারানোর পর লিখেছিলেন, 'চলো, ফাইনালের পথে! সবাইকে অভিনন্দন!'
কিন্তু রোববারের রাত লিখে গেল অন্য গল্প, গর্বিত পরাজয়ের, আর ইতিহাস গড়া মরক্কোর। চিলির সান্তিয়াগোতে প্রতিধ্বনিত হয়েছে একটাই নাম, ইয়াসির জাবিরি।
১২তম মিনিটে বাঁকানো ফ্রি-কিক, আর ১৭ মিনিট পর নিখুঁত এক ফিনিশ -দুই গোলেই মরক্কো পেল তাদের ইতিহাসের প্রথম অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ শিরোপা। সেই সঙ্গে আরব বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে ছুঁয়ে ফেলল এই গৌরব।
আর্জেন্টিনার জন্য এটি ছিল ১৮ বছর পর ফাইনালে ফেরা। কিন্তু স্বপ্নময় রাতটা উল্টে গেল বাস্তবের চাপা ব্যথায়। ম্যাচ শেষে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তে বললেন, 'শুরুর দিকটা আমাদের জন্য কঠিন ছিল, হয়তো ফাইনালের নার্ভাসনেস থেকেই। শুরুর ভুলে গোল খেতে হয়। মরক্কো এমন দল, যারা একবার এগিয়ে গেলে দুর্দান্ত রক্ষণ খেলে আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণ করে।'
ড্রেসিংরুমে তখন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। চোখেমুখে হতাশা, তবু কোচের কণ্ঠে ছিল গর্ব, 'আমি ওদের বলেছি, আমি গর্বিত। এখন ওরা শুনছে না, কারণ মন খারাপ। কিন্তু পরে বুঝবে কী অর্জন করেছে তারা। জিতবে-হারবে, এটাই ফুটবল।'