বারবারই ঘটছে: যোগ করা সময়ে গোল হজমে ক্ষুব্ধ ক্যাবরেরা
আবারও সেই একই গল্প। জয়ের সুবাস পেতে থাকা দলটি, গোল হজম করেছে শেষ মুহূর্তে। আবারও যোগ করা সময়ে গোল হজম করায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের এই ধাক্কা তাকে যেন আবারও একই অধ্যায় পড়তে বাধ্য করেছে।
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে নেপালের বিপক্ষে ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ।
লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর দুর্দান্ত জোড়া গোল বাংলাদেশকে পাঁচ বছর পর নেপালের বিপক্ষে জয়ের পথে নিয়ে যাচ্ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার অসাধারণ বাইসাইকেল কিক ও পরের মিনিটে স্পট-কিক থেকে নেওয়া গোল গ্যালারিতে নতুন আশার স্ফুলিঙ্গ জ্বালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিচিত দুর্বলতাই সামনে আসে, যোগ করা সময়ে অনন্ত তামাংয়ের কর্নার থেকে টোকা দিয়ে করা গোল সবকিছু সমতায় ফেরায়।
ম্যাচ শেষে কোচ ক্যাবরেরা বলেন, 'এটা মানসিক সমস্যা নয়। আমরা প্রশিক্ষণে এই ধরনের পরিস্থিতি শত শতবার অনুশীলন করেছি। কিন্তু কোনো কারণে এটা ঘটে যেতে পারে। সত্যি বলতে, এটা খুব বেশি বারই ঘটছে।'
স্প্যানিশ কোচ স্বীকার করেন, শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর দল যেভাবে লড়াই করেছে, তা ছিল ইতিবাচক; তবে শেষ মুহূর্তের ভুল মেনে নেওয়া কঠিন। 'পিছিয়ে থেকে ফিরেছি, এটা ভালো দিক। কিন্তু সামগ্রিকভাবে হতাশাজনক। আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিশেষ করে প্রথমার্ধে সেটা কঠিন হয়ে যায়,' বলেন তিনি।
প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারার দায়ও নিজের কাঁধে নেন ক্যাবরেরা, 'আমরা বল দখলে রেখেছি ঠিকই, কিন্তু পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হামজার দুইটি মুহূর্তই ছিল সর্বোচ্চ মানের। আমরা আরও ভালো করতে পারতাম, বিশেষ করে প্রথমার্ধে।'
বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স আবারও সামনে এনে দেয় চেনা সমস্যাগুলো অস্থিরতা, রক্ষণভাগের ভঙ্গুরতা এবং ম্যাচের শেষ অংশে ম্যাচ ধরে রাখতে ব্যর্থতা। যদিও হামজা চৌধুরীর অসাধারণ পারফরম্যান্স দলকে বারবার আলো দেখিয়েছে, শেষ বাঁশির অপেক্ষায় বাংলাদেশকে আবারও পরিচিত হতাশার মুখ দেখতে হয়।
এ ম্যাচে ইংল্যান্ড-প্রবাসী কিউবা মিচেলও বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক করেন। ক্যাবরেরা ম্যাচে সব ছয়টি পরিবর্তনই ব্যবহার করেন, যা ১৮ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ।