‘স্পোর্টসম্যানশিপ’ দেখিয়ে প্রশংসিত পাকিস্তানের ফখর

স্পোর্টস ডেস্ক

আবেশ খানের আচমকা বাউন্সারে ভড়কে গিয়ে ব্যাট চালিয়ে পরাস্ত হয়েছিলেন ফখর জামান। খালি চোখে মনে হচ্ছিল বল লাগেনি ব্যাটে। উইকেটকিপার দীনেশ কার্তিকও কিছু হয়নি ভেবে  বল ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। হঠাৎ নজর গেল হাঁটা ধরেছেন ফখর! আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল তা দেখে পরে দিলেন আউট।

বল ব্যাটে লাগলে আর কেউ না বুঝুক ব্যাটসম্যান ঠিকই বুঝতে পারেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ভরপুর গ্যালারির তুমুল আওয়াজের কারণে বল ব্যাটে লাগার শব্দ পাওয়া ছিল কঠিন। আম্পায়ার ও ফিল্ডাররা তা পাননি। বোলার আবেশ হালকা আবেদন করেছিলেন। ফখর এক্ষেত্রে স্থাপন করলেন দৃষ্টান্ত। নিজের ব্যাটে লাগার কথা আড়াল করলেন না তিনি। 

গতকাল (রোববার) ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের এই ঘটনায় প্রশংসা পাচ্ছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটার ফখর। পাকিস্তানের ইনিংসে পাওয়ার প্লের তখন শেষ ওভারের খেলা চলছে।

আবেশকে ছক্কা ও চার মেরে ফখরকে স্ট্রাইক দিয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ফখরও চালাতে গিয়ে হয়ে যান কট বিহাইন্ড। ৬ বলে ১০ রানে থামেন তিনি। ফখর নিজে থেকে আউট হয়ে ফিরে না গেলে এবং মাঠের আম্পায়ারও সাড়া না দিলে রিভিউ নেওয়ার সুযোগ ছিল ভারতের। তবে কিপার কার্তিক যেভাবে নির্বিকার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন তাতে করে তারা রিভিউ নিত কিনা সেই সংশয় থাকছে।

সেদিক থেকে অন্যরকম ক্রিকেটীয় স্পিরিট বা স্পোর্টসম্যানশিপই দেখালেন ফখর। ডিআরএস পূর্ববর্তী যুগে এরকমটা দেখাতে দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ভারতের শচিন টেন্ডুলকারদের।

২০০৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আউট বুঝে নিজে থেকেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন গিলক্রিস্ট। ২০০৭ সালে টেস্টে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করেই মাঠ ছেড়েছিলেন শচিন।

টুইটারে ফখরের বেরিয়ে যাওয়ার ছবি পোস্ট করে অনেকেই তাকে বাহবা দিচ্ছেন। ভারত-পাকিস্তানের তীব্র উত্তেজনার ম্যাচে এরকম সততার পরিচয় দেওয়ায় বাঁহাতি ব্যাটার দুই দলের ভক্তদের কাছ থেকেই পাচ্ছেন প্রশংসা।

কেউ লিখছেন, 'ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা, ফখর সেটাই প্রমাণ করলেন' কয়েকটি গণমাধ্যমের ছবি রিটুইট করে অনেকেই লিখছেন, 'বৈরিতার মাঝে এমন দৃশ্য সুন্দর।'

ফখরের এমন ক্রিকেটীয় স্পিরিট দেখানোর ম্যাচে হেরেছে তার দল। আগে ব্যাট করে পাকিস্তানের ১৪৭ রান ২ বল আগে টপকে ৫ উইকেটে জিতে যায় ভারত।