তানজানিয়ায় জন্ম, বাংলাদেশে অভিষেক: এবার বিশ্বকাপে ইরানকুন্ডার চমক

স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যাচের ২৬তম মিনিট। তুরস্কের প্রথম অন টার্গেট শট। ডি-বক্সে বল পেয়েছিলেন আর্দা গুলের। কিন্তু শট মারলেন সোজা গোলরক্ষকের হাতে।

সেখান থেকেই বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ার। নিজেদের অর্ধ থেকে পল ওকনের লম্বা পাস। বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিলেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা। পেছনে ফেললেন একজনকে। এরপর আরও দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে ঢুকে পড়লেন ডি-বক্সে। গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জড়ালেন জালে। উল্লাসে ফেটে পড়ল অস্ট্রেলিয়া। রোববার ভ্যাঙ্কুভারে 'ডি' গ্রুপের ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয়ে সকারুদের প্রথম গোলটি আসে তার পা থেকেই।

অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ইরানকুন্ডা। ২০ বছর ১২৫ দিন বয়সে গোল করে গড়লেন রেকর্ড। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে কমবয়সী গোলদাতা এখন তিনিই।

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বমঞ্চে

অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল ইতিহাসে নাম লেখানোর আগে থেকেই ইরানকুন্ডার নিজের জীবনের গল্পটা এক বিস্ময়কর রূপকথা। ২০০৬ সাল। তানজানিয়ার এক শরণার্থী শিবির। সেখানেই জন্ম তার। গৃহযুদ্ধের কারণে বুরুন্ডি থেকে পালিয়ে এসেছিলেন তার মা-বাবা।

ছোট্ট বয়সেই পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়, যে দেশের হয়ে এখন ফুটবলের বিশ্বমঞ্চ চমক দেখালেন। এই অস্ট্রেলিয়াতেই ফুটবলের প্রেমে পড়া। এ-লিগের দল অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের হয়ে নিজেকে চেনাতে শুরু করেন তিনি। মূল দলের হয়ে ১৬টি গোল আর ৮টি অ্যাসিস্ট।

নজর কাড়েন বিশ্ব ফুটবলের। ২০২৪ সালে ডাক আসে বায়ার্ন মিউনিখের মতো পরাশক্তির কাছ থেকে। জার্মান ক্লাবটির মূল দলে খেলা হয়নি ঠিকই, তবে অনুশীলনে হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখেছেন।

বিশ্বকাপের স্বপ্নে কঠিন সিদ্ধান্ত

বায়ার্নের মতো ক্লাবে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। এই অভাবটাই তার ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অস্ট্রেলিয়া দল থেকে বাদও পড়েন। এরপর গত বছরের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বাধ্য হয়ে নেন এক কঠিন সিদ্ধান্ত।

যোগ দেন ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে। বুন্দেসলিগার চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে হলে তাকে তো নিয়মিত খেলতেই হতো!

বাংলাদেশের বিপক্ষে শুরু, এরপর ইতিহাস

গত জুনের এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় ইরানকুন্ডার। জাতীয় দলে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিলিস্তিনের বিপক্ষে জালের দেখা পান। দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়ে ফেলেন তখনই।

যে ছেলেটি এক বছর আগেও কেইনের কাছে শিখছিলেন, তিনি এখন লিখছেন নিজের ইতিহাস। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইরানকুন্ডা বলেন, 'অবাস্তব এক অনুভূতি, যেন স্বপ্ন সত্যি হলো।'

তবে এই স্বপ্ন পূরণের জন্য কতটা ছাড় দিতে হয়েছে, তা জানা যায় গত বছর তার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। বলেছিলেন, '(বায়ার্ন ছাড়ার) সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বিশ্বকাপে খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে আর আমাকে মাঠে থাকতে হবে। আমি তো খেলার সুযোগ পাচ্ছিলাম না।'