ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ভিসা বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে মাথা ঘামাতে চায় না ইরান

স্পোর্টস ডেস্ক

রাজনৈতিক উত্তেজনা আর ভিসা জটিলতায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে ইরানের। তবে এসব নিয়ে একদমই মাথা ঘামাতে চান না দলটির কোচ আমির গ্যালেনোই। রবিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তার খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরের কোনো উত্তাপে কান দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাসের সামরিক সংঘাতের কারণে এমনিতেই এক উত্তপ্ত কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বকাপে অংশ নিতে এসেছে ইরান। এর ওপর দলের কয়েকজন সহকারী কর্মকর্তার ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

এমন থমথমে আবহাওয়ার মধ্যেই সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ আয়োজক দেশে খেলতে এসেছে এমন এক দেশ, যাদের সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত।

ম্যাচটি ঘিরে স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে কট্টরপন্থী ইরান সরকারের বিরোধী প্রবাসী নাগরিকরা। গ্যালারি থেকে সরকারবিরোধী ব্যানার দেখালে ইরান দল মাঠ ছেড়ে চলে যেতে পারে, এমন হুমকিও রয়েছে।

এএফপির এক প্রশ্নের জবাবে গ্যালেনোই বলেন, ‘আমরা এখানে একটা ভালো ও উচ্চমানের ম্যাচ খেলতে এসেছি। চারপাশে কী হইচই হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। সব দলেরই কিছু না কিছু সমস্যা থাকে। অনেক দেশে এমন অনেক ঘটনা ঘটে, যার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা রাজনৈতিক মানুষ নই। ফুটবল আর রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা এখানে এসেছি ইরানের সাধারণ ও সম্মানিত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে—তারা দেশের ভেতরে থাকুন আর বাইরে।’

অবশ্য এই সংবাদ সম্মেলনের মাত্র ঘণ্টাখানেক আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার ফলে সব পক্ষ থেকেই ‘অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে’ সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা এসেছে।

চলমান বিশ্বকাপে রাজনৈতিক জটিলতা অবশ্য শুধু ইরানকে ঘিরেই নয়। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনের এই টুর্নামেন্টে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানসহ অনেক সমর্থককেই যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

দলের তারকা স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি বলেন, ‘শুধু ইরানই ভুক্তভোগী নয়, একজন রেফারিসহ আরও অনেকেই এর শিকার হয়েছেন। এই উত্তেজনা বিশ্বকাপের আনন্দ মাটি করে দিচ্ছে। ফুটবলের মূল বার্তাই তো হলো শান্তি আর আনন্দ ছড়ানো, সেটাই ব্যাহত হচ্ছে।’

প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের অনুশীলন ক্যাম্প করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা মেক্সিকোর টিজুয়ানায় সরিয়ে নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে কোচ গ্যালেনোই বলেন, ‘ক্যাম্প দুবার বদল করায় আমাদের ক্ষতি হয়েছে। আমরা দেরিতে পৌঁছেছি, মানিয়ে নেওয়ার সময় পাইনি। তবে আমরা ইরানিরা কঠিন পরিস্থিতি থেকেই সুযোগ তৈরি করতে জানি। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’

ইরান কখনো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি। এবার গ্রুপ ‘জি’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিশর।