অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্র

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের উত্তাপ যেন দিনে দিনে আরও বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর সেই উত্তাপের বড় অংশই এখন স্বাগতিক দলের ঘিরে। অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন সমর্থকদের স্বপ্নও বড় হতে শুরু করেছে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দলটিকে ঘিরে।

সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় মরিসিও পচেত্তিনোর দল। জয় পেলে নকআউটের দুয়ার খুলে যাবে, এমন সমীকরণ মাথায় নিয়েই মাঠে নেমেছিল তারা। আর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে খুব বেশি সময়ও লাগেনি।

ম্যাচের ১১তম মিনিটে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে গিয়ে ফোলারিন বালোগুন বল ফেরান বক্সের ভেতরে। সেখানে রিকার্দো পেপির চাপে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্গেস নিজের জালেই বল জড়িয়ে বসেন। আত্মঘাতী সেই গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

চোটের কারণে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিককে ছাড়াই খেলতে নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে তার অনুপস্থিতি খুব একটা টের পেতে হয়নি। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল তারা।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ৪৪তম মিনিটে অ্যান্টোনি রবিনসনের ফ্রি-কিক থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে সের্হিনিও ডেস্টের শট প্রতিহত হয়। ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে হেডে গোল করেন অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বিরতির পর তিনটি পরিবর্তন এনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে তুরস্কের বিপক্ষে গোল করা নেস্টরি ইরানকুন্ডা মাঠে নেমে আক্রমণে গতি আনেন। ক্রিস্টিয়ান ভলপাতোও একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি।

শেষ দিকে কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের রক্ষণ সামলে রাখে। কনার মেটকাফের শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, আবার জেসন জেরিয়ার কাছ থেকে আসা আরেকটি প্রচেষ্টাও প্রতিহত হয়। ফলে ক্লিন শিট নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের মধ্যে মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে তারা। এখন তাদের সামনে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ তুরস্কের বিপক্ষে।