ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

পয়েন্ট টেবিলের নিয়ম বদল, শেষ ম্যাচের আগেই যেভাবে বাদ তুরস্ক ও হাইতি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট তালিকা নির্ধারণে এক সূক্ষ্ম পরিবর্তন এনেছে ফিফা, তাতে বড় প্রভাব পড়তে পারে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোতে।

এর আগে দুটি দলের পয়েন্ট সমান হলে দেখা হতো কোন দল কত বেশি গোল দিয়েছে (গোল ব্যবধান)। কিন্তু এবার সেই নিয়ম বদলে সবার আগে দেখা হচ্ছে 'হেড-টু-হেড' রেকর্ড। অর্থাৎ, পয়েন্ট সমান হওয়া দল দুটি যখন নিজেদের মধ্যে খেলেছিল, তখন কোন দল জিতেছিল। তখনো ড্র হলে পরে আসবে গোল গড়। 

মাঝপথে এই নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে হাইতি ও তুরস্ক। 

কাগজে-কলমে আশা, নিয়মের মারপ্যাঁচে বিদায়!

হাইতি ও তুরস্কের বিদায়টা নিয়মের এই মারপ্যাঁচকে পুরোপুরি স্পষ্ট করে দিয়েছে। দুই দলই তাদের গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকা দলের চেয়ে মাত্র ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। শেষ ম্যাচে জিতে পয়েন্ট সমান করার গাণিতিক সুযোগ তাদের ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মের কারণে তারা ম্যাচ খেলার আগেই ছিটকে গেছে! কারণ, পয়েন্ট সমান হলেও তারা ওই নির্দিষ্ট দলগুলোর কাছে নিজেদের মুখোমুখি লড়াইয়ে আগেই হেরে বসেছে। ফলে পরের ম্যাচে জিতলেও তাদের আর টেবিলের ওপরে ওঠার কোনো সুযোগ নেই।

দুই ম্যাচ খেলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন!

আগের নিয়মে প্রথম দুই ম্যাচ জেতার পরও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত হতে দলগুলোকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু নতুন নিয়মে হিসাব একদম বদলে গেছে:

কোনো দল যদি প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট পায় এবং ৩ পয়েন্টে থাকা দলটিকে আগেই হারিয়ে থাকে, তবে শেষ ম্যাচের আগেই তারা নিশ্চিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।

যেমনটা ঘটেছে গ্রুপ 'এ'-তে মেক্সিকোর ক্ষেত্রে। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তারা ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট ৩। যেহেতু মেক্সিকো সরাসরি ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে, তাই শেষ ম্যাচে মেক্সিকো হারলেও আর দক্ষিণ কোরিয়া জিতলেও (উভয়ের পয়েন্ট ৬ হলেও) হেড-টু-হেডের নিয়মে মেক্সিকোই গ্রুপ সেরা থাকবে।

এর ফলে কী প্রভাব পড়তে যাচ্ছে?

  • ম্যাচের গুরুত্ব কমে যাওয়া: মেক্সিকোর মতো যে দলগুলো দুই ম্যাচ খেলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত করে ফেলছে, শেষ ম্যাচে তাদের হারানোর কিছু থাকছে না।

  • খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও বিতর্ক: গ্রুপ সেরা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় দলগুলো তাদের মূল তারকাদের শেষ ম্যাচে বিশ্রাম দিতে পারে। এর ফলে প্রতিপক্ষ দল বাড়তি সুবিধা পেয়ে যেতে পারে, যা গ্রুপের বাকি দলগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

  • অদ্ভুত ফলাফলের দিন শেষ: ফিফার মতে, এই নিয়মটি অনেক বেশি যৌক্তিক। আগে দেখা যেত কোনো শক্তিশালী দল দুর্বল কোনো প্রতিপক্ষকে ৭-১ বা ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গোল ব্যবধানে অনেক এগিয়ে যেত। নতুন নিয়মে কোনো একটি ম্যাচে এমন অস্বাভাবিক বড় জয়ের বাড়তি সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।

পয়েন্ট টেবিলের এই নতুন সমীকরণ দলগুলোর রণকৌশল পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এখন শুধু ম্যাচ জেতা বা গোল সংখ্যা বাড়ানোই নয়, বরং নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে সরাসরি হারানোই হয়ে উঠেছে পরের রাউন্ডে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।