৯০ মিনিটে ১৫ সেভের বিশ্বরেকর্ড গড়ে আনন্দে ভাসছেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক
কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম যেন চীনের প্রাচীর। তাকে ভেদ করে কোনো গোলই যেন হবার নয়। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৩৭ পেরোনো এই গোলরক্ষক যা করলেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। ৯০ মিনিটে ১৫টি সেভ করে বিশ্বরেকর্ডে নাম লিখেছেন তিনি। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসে দেশকে এনে দিয়েছেন প্রথম পয়েন্ট। প্রতিক্রিয়ায় দেশকে পয়েন্ট এনে দেওয়ার তৃপ্তির কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপ অভিষেকেই জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল প্রায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার কুরাসাও। কিন্তু মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে সেই ধাক্কা সামলে সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক দল দেখল বিশ্ব। শক্তিশালী ইকুয়েডরকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার আশাও বাঁচিয়ে রাখল তারা।
ম্যাচে ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ একাই নসাৎ করে দেন রুম। পুরো ৯০ মিনিটে মোট ১৫টি সেভ করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৬টি সেভের রেকর্ড ছিল যুক্তরাষ্ট্রের টিম হাওয়ার্ডের। তবে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছিল। সেই তুলনায় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ভেতর রুমের ১৫টি সেভ করার কীর্তি ফুটবল বিশ্বে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল।
ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় ইকুয়েডরের তারকা ফরোয়ার্ড এনার ভ্যালেন্সিয়া ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু রুম অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে বল পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন। ম্যাচের শুরুতেই করা এই সেভ পুরো কুরাসাও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। রুমের এই বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স ইকুয়েডরকে এতটাই হতাশ করে যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের খেলায় জড়তা চলে আসে।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত রুম বলেন, ‘আমি জানতাম ম্যাচটি খুব কঠিন হতে যাচ্ছে। তবে প্রথম সেভটিই আমাদের দলের খেলার সুর ঠিক করে দিয়েছিল। এটি আমাকে আত্মবিশ্বাস জোগায় এবং ম্যাচজুড়ে আমি নিজের সেরাটা দিতে পারি। আসলে আমরা শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছি। কুরাসাওয়ের জন্য এভাবে একটি পয়েন্ট পাওয়া সত্যিই অসাধারণ।’
টানা ১৯ ম্যাচে অপরাজিত থেকে নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইকুয়েডর ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বজায় রেখেও গোল করতে না পারায় পুরোপুরি স্তব্ধ। ইকুয়েডরের সমর্থকেরা গ্যালারিতে সংখ্যার দিক থেকে অনেক এগিয়ে ছিলেন এবং ম্যাচজুড়ে 'আমরাই জিতব' স্লোগানে মাঠ কাঁপিয়ে রাখছিলেন। কিন্তু ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই স্টেডিয়ামজুড়ে নেমে আসে নীরবতা, আর উৎসবে মেতে ওঠে আন্ডারডগ কুরাসাও।
কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইকুয়েডর শট নিয়েছিল ২৬টি, যার মধ্যে ১৫টিই ছিল অন-টার্গেট। কিন্তু রুমের বিশ্বরেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সের সামনে সব ভেস্তে যায়। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ 'ই' থেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জার্মানির পরের পর্বে যাওয়া নিশ্চিত হলো। একই সঙ্গে কুরাসাও প্রমাণ করল, বড় মঞ্চে ছোট দলগুলোও এখন বুক চিতিয়ে লড়াই করতে জানে।