ইয়ামাল ফিরতেই চেনা ছন্দে ফিরলো স্পেন
টানা ৩১ টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থেকে অন্যতম ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল স্পেন। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সেই স্পেন ছিল একদমই অচেনা। অবশেষে আজ সৌদি আরবের বিপক্ষে চিরচেনা রূপে ধরা দিলো স্প্যানিশ ফুটবলের সৌন্দর্য। সৌদি আরবকে নাস্তানাবুদ করে ৪-০ জয়ের গোলে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে স্পেন।
জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া স্পেন এদিন শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনে, যার মধ্যে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনটি ছিল একাদশে লামিন ইয়ামালের অন্তর্ভুক্তি। ইয়ামাল না থাকায় আগের ম্যাচে স্পেনের আক্রমণ অনেকটাই ভোঁতা লেগেছিল। আজও শুরু থেকে তাকে পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে ইয়ামাল খেলেছেন এবং স্পেনকেও খেলিয়েছেন। আজ প্রথম মিনিট থেকেই তিনি বুঝিয়েছেন, কেন তাকে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার মানা হয়।
সৌদির বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই রাইট উইং থেকে একের পর এক ক্রস তুলেছেন ইয়ামাল। প্রথম সাফল্যটাও এসেছে এই বার্সা তারকার পা থেকেই। বক্সের বাঁ পাশ থেকে নিখুঁত কোণে বল পাঠান মিকেল ওয়ারজাবাল, স্লাইড করে সেটিকে শুধু জালে ঢুকিয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেয়েছেন ইয়ামাল।
প্রথমার্ধের বাকি অংশে ইয়ামালকে ছাপিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই স্পেনের নায়ক ওয়ারজাবাল। বছর দুয়েক ধরেই প্রথাগত স্ট্রাইকার ছাড়া খেলে অভ্যস্ত স্পেনের গোলের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা এই ফরোয়ার্ড। আগের ম্যাচে ৩০ মিনিটেও একবার বল স্পর্শ করতে পারেননি। আজ ২১ থেকে ২৪- তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সংশয় শেষ করে দিয়েছেন তিনি। হ্যাটট্রিকও পেয়ে যেতে পারতেন, যদি না ৩৬ মিনিটে ক্রসবারে বল লাগাতেন।
ফলাফল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বিরতির সময়ই দুই গোলদাতাকে উঠিয়ে নেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বিরতির ঠিক পরপরই ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ গোলটি পায় বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। কর্নার থেকে আসা বলে শক্তিশালী শট নিয়েছিলেন কুকুরেয়া, সেটি গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফিরে এসে আবার ডিফেন্ডার আল-তামবাক্তির গায়ে লেগে জালে ঢুকে। এই নিয়ে এটি এবারের বিশ্বকাপের অষ্টম আত্মঘাতী গোল।
এরপর অনেকটাই খোলসে ঢুকে যায় স্পেন। বল পায়ে রেখে নিরাপদ খেলেছে অনেকটা সময়। স্টপেজ টাইমে ট্যাপ ইন করে একটি গোল করেছিলেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
পুরো ম্যাচে বলতে গেলে একাই খেলেছে স্পেন। সৌদির গোলমুখে মোট ২২টি শট নিয়েছে তারা, বল দখলে রেখেছিল ৬৭ শতাংশ সময়। দাপুটে এই জয়ে আপাতত গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ লাতিন দল উরুগুয়ের বিপক্ষে।