‘আমার গলা ভেঙে গেছে’, মহাকাব্যিক জয়ের পর কেইন
শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলারের শেষ বাঁশি যখন বাজল, ইংল্যান্ডের গোটা দল যেন বাঁধনহারা। আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে চিৎকার করে, গান গেয়ে গলাও ভেঙে ফেলেছেন দলটির অধিনায়ক হ্যারি কেইন। জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত জোড়া গোলের পাশাপাশি পেনাল্টিতে গুরুত্বপূর্ণ গোল যে তিনিও করেছেন। পাগলাটে ম্যাচে এগোনোর পথ বের করতে পেরে কেইনদের উচ্ছ্বাস যেন অন্য মাত্রার।
ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর পর ভাঙা গলায় কেইন বলেন, ‘আমি কেবল গানই গাইছিলাম, এখন ঠিকমতো কথা বলতে পারছি না।’
‘এটি পাগলাটে ম্যাচ ছিল। আমাদের লড়াই করতে হয়েছে এবং নতুন কিছু খুঁজে বের করতে হয়েছে। পরিবেশ, প্রতিপক্ষ দল, সবকিছু আমাদের বিপক্ষে ছিল, তবুও আমরা একটা পথ বের করে নিয়েছি।’
প্রথমার্ধের মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর দুই গোল করে বেলিংহাম চালকের আসনে বসান ইংল্যান্ডকে। হাল না ছেড়ে মেক্সিকো এক গোল শোধ দেয়। এরপর জ্যারেল কোয়ান্সাহ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে, কেইন ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের দুই গোলের ব্যবধান ধরে রাখেন।
তবে রাউল হিমেনেসের পেনাল্টি ম্যাচটিকে এক উন্মাদনাপূর্ণ সমাপ্তির দিকে নিয়ে যায়। স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-২। যেকোনো মুহূর্তে সমতায় ফিরে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিতে মরিয়া ছিল মেক্সিকো। ৮০ হাজারেরও বেশি স্থানীয় সমর্থকের সামনে মেক্সিকোর স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিতে থ্রি লায়ন্সরা ১১ মিনিটের ইনজুরি টাইমে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে জয় ধরে রাখে।
ম্যাচের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেইন। মেক্সিকোর দ্বিতীয় পেনাল্টি গোলের উৎস যে চ্যালেঞ্জটি ছিল, সেটির জন্য তাকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল বলটি আমিই আগে পেয়েছিলাম, দিনটি এমনই ছিল। রেফারি আমাদের বিপক্ষে অনেক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর কোনো প্রভাব ফেলেনি। তাই আমি খুশি।’
ম্যাচের শেষ দিকটা যদি ইংল্যান্ডের স্নায়ুর পরীক্ষা নিয়ে থাকে, তবে ম্যাচ শেষের উদযাপনই বলে দিচ্ছিল তারা কত বড় একটি গৌরব অর্জন করেছে। আসতেকার সেই প্রতিকূল সন্ধ্যায় পুরো ম্যাচ জুড়ে গ্যালারি কাঁপানো ইংল্যান্ড সমর্থকদের জন্য বিশেষ প্রশংসা তুলে রাখেন কেইন।
তিনি বলেন, ‘অসাধারণ, অবিশ্বাস্য সমর্থন। [আমি] ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।’
উচ্চতা ও বাতাসের চাপ, প্রতিপক্ষের একতরফা সমর্থক এবং আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ১০ জন নিয়ে খেলার মতো বড় ধাক্কা সামলে ওঠার পর ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল তার দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
টুখেল বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত।’
‘আমাদের সবটুকু ঢেলে দিতে হয়েছিল। এটি অত্যন্ত কঠিন ছিল। যে মুহূর্তে আমরা ভেবেছিলাম ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে চলে এসেছে, ঠিক তখনই আমরা ধাক্কা খেয়েছি। পরে ফিরে এসেছি। এটাই আসল মানসিকতা।’
এই জার্মান কোচ বিশ্বাস করেন, চাপের মুখে ভেঙে না পড়ার এই জেদই এখন ইংল্যান্ড দলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে, ‘এই দলটি সত্যিই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরিস্থিতি যখন কঠিন হয়ে ওঠে, তারা কখনো হাল ছাড়ে না, বিশ্বাস হারায় না। এটি ছিল আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।’
‘আমাদের এটি মনে গেঁথে নিতে হবে। এটি আসতেকা, এটি মেক্সিকো, একটি পাগলাটে ম্যাচ। আমরা আমাদের সবকিছু মাঠে ঢেলে দিয়েছি, আমাদের প্রতিটি সদস্য। এই অনুভূতি আমাদের ধরে রাখতে হবে, এখন আমাদের পুরো শক্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’
কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ব্রাজিলকে বিদায় করে আসা নরওয়ের মুখোমুখি হবে।