সমর্থকদের জন্য বিশ্বকাপ জিততে চায় আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ জেতার পর অনেক দলই তৃপ্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা। কাতারে শিরোপা জয়ের পরও আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষুধা কমেনি লিওনেল স্কালোনির দলের। কোচের বিশ্বাস, সেই ক্ষুধার সবচেয়ে বড় উৎস দেশের কোটি কোটি সমর্থক।

বাংলাদেশ সময় সোমবার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি সামনে রেখে স্কালোনি জানিয়েছেন, তার দলের সবচেয়ে বড় প্রেরণা ট্রফি নয়, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, 'নিজেদের মানুষকে যখন আনন্দ করতে দেখেন, তাদের সুখ দেখতে পান, তখন সেটা আপনাকে ছুঁয়ে যায়। হৃদয় স্পর্শ না করে পারে না।'

তার মতে, ফুটবলাররা শুধু নিজেদের জন্য খেলেন না, খেলেন পুরো দেশের জন্য।

'শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের জন্যই খেলি। দল খেলছে দেশের জন্য, পরিবারের জন্য। বোকা জুনিয়র্স আর রিভার প্লেটের সমর্থকরা টেলিভিশনের সামনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করে। এটা কীভাবে আমাদের নাড়া দেবে না?' বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।

স্কালোনির সঙ্গে একই সুরে কথা বলেছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও। সমর্থকদের উন্মাদনাই তাদের বাড়তি শক্তি জোগায় বলে মনে করেন তিনি, 'আমাদের সমর্থকরা সত্যিই অন্যরকম। আর্জেন্টিনার প্রচণ্ড ঠান্ডায় রাত দুইটায়ও মানুষকে উদযাপন করতে দেখা অনেক বড় ব্যাপার। আমরা দেশের জন্য আবারও ট্রফিটা নিয়ে যেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।'

অ্যাস্টন ভিলার এই গোলরক্ষক জানান, চার বছর আগে কাতারে শিরোপা জয়ের চেয়েও এবারের বিশ্বকাপ তিনি বেশি উপভোগ করছেন। উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের তিক্ত স্মৃতির পর সেবার যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দল, সেটিও স্মরণ করেন তিনি।

তবে ফাইনালের আগে প্রস্তুতিতে কিছুটা অসুবিধায় পড়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল খেলেছে স্পেনের এক দিন পরে। ফলে বিশ্রাম ও অনুশীলনের সময়ও তুলনামূলক কম পেয়েছে স্কালোনির দল।

এ নিয়ে তিনি বলেন, 'অনুশীলনের জন্য খুব বেশি সময় পাইনি। গত রাতে আমরা ১১টায় পৌঁছেছি। কালও ব্যস্ত সূচি থাকবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলব, তারা কেমন আছে দেখব। তবে আপাতত সবাই ভালো অবস্থায় আছে।'

ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। একদিকে লিওনেল মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার তীব্রতা ও লড়াকু মানসিকতা, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালদের নান্দনিক পজেশনভিত্তিক ফুটবল, দুই ভিন্ন দর্শনের লড়াই দেখবে ফুটবল বিশ্ব।

৩৯ বছর বয়সী মেসির প্রশংসা করতেও ভোলেননি স্কালোনি, '৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তিনি যা করছেন, সেটার মূল্যায়ন করা উচিত। কয়েক বছর আগে কেউ ভাবেনি এটা সম্ভব। আমরা অবশ্যই জিততে চাই। কিন্তু না জিতলেও তিনি সবার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।'

মেসির এটিই শেষ বিশ্বকাপ কি না, এমন প্রশ্নে অবশ্য হাসতে হাসতেই জবাব দেন স্কালোনি, 'আমি সেটা কীভাবে জানব!'