নতুন কেনা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকতে পারে ভাইরাস, করতে পারে যেসব ক্ষতি

মো. জাহিদুর রাব্বী
মো. জাহিদুর রাব্বী

নতুন স্মার্টফোন কিনে চালু করার আগেই সেটিতে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ভাইরাস থাকতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিটডিফেন্ডারের গবেষকেরা বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের হাজার হাজার কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এমন সফটওয়্যার পেয়েছেন। ফোনের সিস্টেম সফটওয়্যারের মধ্যেই এটি আগে থেকে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

গবেষকেরা এই ম্যালওয়্যার ছড়ানোর ঘটনাটির নাম দিয়েছেন ‘মিডনাইট মিমোসা’। গত দুই বছরে হাজার হাজার ফোনে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ফোনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মেক্সিকো, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে।

মিডিয়াটেক চিপ ব্যবহার করা কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এমন ফোন আছে যেগুলোর নাম ও বিজ্ঞাপনে দামি ও উন্নত স্মার্টফোনের মতো বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে।

কী ক্ষতি করতে পারে এই ম্যালওয়্যার

এই ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর অজান্তেই ফোনে অ্যাপ ইনস্টল করতে বা মুছে ফেলতে পারে। ভুয়া বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মতো কার্যক্রমও চালাতে পারে। এমনকি ফোনের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করে ক্ষতিকর কাজ করতে পারে।

কিছু আক্রান্ত ফোন ব্যবহারকারীর অজান্তে অন্যদের ইন্টারনেটের তথ্য আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এভাবে ফোনটি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ডিভাইসের একটি দলের অংশ হয়ে যেতে পারে। এই ধরনের দলকে বলা হয় ‘বটনেট’।
গবেষকেরা গুগল প্লেতে ছড়িয়ে পড়া ১৩টি ক্ষতিকর অ্যাপও শনাক্ত করেছেন। ফোনে আগে থেকে থাকা ম্যালওয়্যার সাময়িকভাবে গুগল প্লে স্টোর বন্ধ করে দিতে পারে। এরপর এটি অন্য ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করার চেষ্টা করে, যেন গুগলের নিরাপত্তাব্যবস্থা সহজে তা শনাক্ত করতে না পারে।

এ ছাড়া সাধারণ অ্যাপের মতো দেখতে অন্তত ৩২ ধরনের অ্যাপ গোপনে ইনস্টল করতে পারে এই ম্যালওয়্যার। এসব অ্যাপের মধ্যে রয়েছে আবহাওয়ার খবর দেখার অ্যাপ, ফাইল সাজানোর অ্যাপ, আইকন বদলানোর টুল ও অডিও সম্পাদনার অ্যাপ।

ম্যালওয়্যার সরানো এত কঠিন কেন

সাধারণ অ্যাপ ফোনের সেটিংস থেকে মুছে ফেলা যায়। কিন্তু এই ম্যালওয়্যার ফোনের মূল সিস্টেম সফটওয়্যারের মধ্যে থাকায় সহজে সরানো যায় না।

বিটডিফেন্ডারের গবেষকদের মতে, এটি সরাতে ফোনের সিস্টেম সফটওয়্যারে বিশেষ পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এ জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রয়োজন, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কঠিন।

এই ম্যালওয়্যার কারা ছড়িয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। ফোন তৈরির সময়, নাকি বাজারে পৌঁছানোর পথে এগুলো আক্রান্ত হয়েছে, সেটিও নিশ্চিত নয়।

কিছু আক্রান্ত সফটওয়্যারে চীনা প্রতিষ্ঠান শেনজেন জেডিয়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল সনদ পাওয়া গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা প্রমাণ করতে পারেননি গবেষকেরা।

অ্যাপল, স্যামসাং ও অনরের দামি ফোনের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি কিছু ফোনেও ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে। আক্রান্ত কিছু মডেলের সঙ্গে চীনা ব্র্যান্ড ডুগি ও কিউবটের নামও যুক্ত আছে।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন

ফোনে হঠাৎ অনেক বিজ্ঞাপন দেখা, অপরিচিত অ্যাপ পাওয়া, অস্বাভাবিকভাবে চার্জ শেষ হওয়া, বেশি ডেটা খরচ বা ফোন ঘন ঘন গরম হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হোন। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে ফোনে ম্যালওয়্যার আছে, তা নিশ্চিত নয়।

ফোনের অ্যাপগুলো পরীক্ষা করুন, অ্যান্ড্রয়েড নিয়মিত হালনাগাদ রাখুন এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা অ্যাপ দিয়ে ফোন পরীক্ষা করুন। মনে রাখবেন, ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করলেও এই ম্যালওয়্যার থেকে মুক্তি নাও মিলতে পারে।

ফোনে ম্যালওয়্যার আছে বলে সন্দেহ হলে সেটি দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা এড়িয়ে চলুন।

ফোন কেনার সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি। অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হওয়া ফোন, অপরিচিত বিক্রেতা কিংবা প্রস্তুতকারকের পরিচয় স্পষ্ট নয়, এমন পণ্য কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। পরিচিত ব্র্যান্ড ও অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে ফোন কিনলে ঝুঁকি কমতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ‘ব্যাডবক্স ২.০’ নামে আরেকটি বটনেটের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তখন বিশ্বজুড়ে ১০ লাখের বেশি ডিভাইস আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।