নতুন কোচের সন্ধানে বাফুফে, আবেদন করতে পারবেন কাবরেরাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোচের সন্ধান শুরু করায় জাতীয় দলের বর্তমান কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। শনিবার ফেডারেশের জাতীয় দল কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কাবরেরার ভাগ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কোচের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩০ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে।

সভা শেষে বাফুফের জাতীয় দল কমিটির সদস্য ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, ফেডারেশন নতুন প্রার্থীদের জন্য কোচের পদটি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাবু বলেছেন, 'আমরা আজ থেকেই নতুন কোচের খোঁজ শুরু করছি। আমরা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেব। প্রয়োজনে কাবরেরাও সেই সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। এরপর কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।'

কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ তাদের সবশেষ ম্যাচটি খেলেছে গত ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। পুনরায় নিয়োগ না পেলে সেখানেই শেষ হতে পারে তার অধ্যায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে কোচের দায়িত্ব পালন করলেও তার চার বছরেরও বেশি সময়ের এই অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

দলের খেলার ধরনে দৃশ্যমান উন্নতি হলেও ফলাফল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হামজা চৌধুরী-শমিত সোমসহ বেশ কয়েকজন প্রবাসী খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার পরেও বাংলাদেশ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

নতুন কোচের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কাবরেরা কোনো বাড়তি সুবিধা পাবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বাবু পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, পুরো প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক হবে, 'যদি তিনি আবেদন করেন, তবে আগের কোনো বিষয় বিবেচনা করা হবে না। তাকে নতুন করেই আবেদন করতে হবে।'

কমিটি সর্বসম্মতভাবে দেশি ও বিদেশি উভয় মাধ্যম থেকে আবেদনপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দূতাবাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহ করা হবে। বাফুফের লক্ষ্য হলো, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন প্রধান কোচ ও একজন গোলরক্ষক কোচকে দুই বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া।

গোলরক্ষক কোচের পদটিতে গত কয়েক বছরে বারবার পরিবর্তন দেখা গেছে। এবার তাই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে সেখানেও স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাবু যোগ করেছেন, 'আমরা ইতোমধ্যে একজন গোলরক্ষক কোচের খোঁজ শুরু করেছি।'

কোচিং প্যানেলে পরিবর্তনের পাশাপাশি বাফুফে আগামী ১ থেকে ৯ জুনের ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর দিকেও নজর দিচ্ছে। এই সময়ে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ফেডারেশন, যেখানে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে। মালদ্বীপে চার জাতি টুর্নামেন্টে খেলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বাবু বলেছেন, 'আমরা থাইল্যান্ড বা মিয়ানমারের মতো কিছুটা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার চেষ্টা করব।'

ফুটবল কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কমিটি একটি অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দল গঠনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবে এই দলটিকে সারা বছর অনুশীলনের মধ্যে রাখা হবে, যাতে তারা সিনিয়র দলের 'ব্যাকআপ' হিসেবে কাজ করতে পারে। বাবুর ভাষ্য, 'আমরা আজ থেকেই অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই দলটি নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে থাকবে।'

বাফুফে কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, সিনিয়র ও যুব— উভয় দলের জন্য বছরব্যাপী ক্যাম্প বজায় রাখলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, ধারাবাহিকতা ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যা আগামী বছরগুলোতে দলের গতিপথ নির্ধারণ করে দিতে পারে।

সভার সারসংক্ষেপ:

১. বাফুফে নতুন প্রধান কোচের খোঁজ শুরু করেছে। বর্তমান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা আগ্রহী হলে তাকে পুনরায় আবেদন করতে হবে। আগামী ৩০ এপ্রিল তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

২. নতুন প্রধান কোচ ও গোলরক্ষক কোচকে দুই বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

৩. দেশি ও বিদেশি উভয় পর্যায় থেকে আবেদন আহ্বান করা হবে।

৪. জুনের ফিফা উইন্ডোতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

৫. সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের নাম আলোচনায় রয়েছে।

৬. অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দল গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

৭. সিনিয়র ও অনূর্ধ্ব-২৩— উভয় দলের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে।