রানা প্লাজা-তাজরীনে হতাহতদের ক্ষতিপূরণসহ ৭ দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধস ও আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে আহত ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা ক্ষতিপূরণসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ডে রানা প্লাজা ধসে পাঁচটি পোশাক কারখানা—নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড, ফ্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেড, ফ্যান্টম টেক্স লিমিটেড ও ইথার টেক্স লিমিটেডের ১ হাজার ১৩৮ জনের বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি। এর আগের দিন ভবনে বড় ফাটল দেখা দিলেও শ্রমিকদের জোর করে কাজে ফিরিয়ে আনা হয়, যা এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের ৫ মাস আগে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারান ও অনেকে গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করেন। কারখানার গেট বন্ধ থাকায় বের হওয়ার কোনো সুযোগ না পেয়ে শ্রমিকেরা মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হন।

তিনি আরও বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন কারখানায় বিশ্বের অন্যতম বড় শ্রমিক হত্যার উদাহরণ হলেও এসব মামলার অধিকাংশ আসামি বর্তমানে জামিনে মুক্ত। শুধু ভবন মালিক সোহেল রানা ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার এখনো দৃশ্যমান নয়।

সংবাদ সম্মেলনে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—হতাহত শ্রমিকদের পুনর্মূল্যায়ন করে ক্ষতিপূরণ, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা; সব পোশাকশ্রমিককে ‘অ্যামপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিমে’র আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করা; বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা; সহায়তার নামে প্রাপ্ত অনুদানের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ; দায়ী মালিকদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয়; নিহত শ্রমিকদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ; ২৪ এপ্রিলকে ‘শ্রমিক হত্যা দিবস’ ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর নৈতিক ও আইনি দায় নিশ্চিত করা।