কুরাসাওকে বাস্তবতা বুঝিয়ে বিশাল জয়ে শুরু জার্মানির
ম্যাচ শুরুর আগে ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন, সত্যিকারের ডেভিড-গোলিয়াথ লড়াই বোধহয় একেই বলে। একদিকে মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও, প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসার আনন্দে যারা বিভোর। আরেকদিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, যৌথভাবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সফলতম দল। মাঠের খেলায়ও সেই ব্যবধান ভালোভাবেই বুঝিয়েছে জার্মানরা। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জার্মানি।
শুধু ফলাফল দেখে মনে হতে পারে একপেশে ম্যাচ হয়েছে, কিন্তু ম্যাচের শুরুটা বেশ রোমাঞ্চকরই হয়েছিলো। মাত্র ৬ মিনিটে ফেলিক্স মেচার বাঁকানো শটে জার্মানি এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ শুরু থেকেই রাখতে চলেছে তারা। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২১ মিনিটে গোল শোধ করে বসে কুরাসাও। ডি বক্সের ভেতর থেকে নেয়া জোরালো শট জার্মান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে ঢুকলেও ইতিহাসে নাম উঠে গেছে লিভানো কোমেনেন্সিয়ার। কুরাসাওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করার কৃতিত্ব আজীবনের মতো হয়ে গেলো তার।
অপ্রত্যাশিতভাবে গোল খেয়ে জার্মানি নড়েচড়ে বসলেও কুরাসাও বেশ গোছানো ফুটবল খেলেছে এরপর। বিশেষ করে ডিফেন্স লাইন এবং ইন্টার মায়ামিতে খেলা গোলকিপার এলয় রুম বেশ কয়েকবার জার্মান আক্রমণ ঠেকিয়েছেন। কিন্তু ৩৮ মিনিটে কর্ণার থেকে নিকো শ্লটারব্যাকের হেডে এগিয়ে যাওয়ার পর আর জার্মানিকে ধরতে পারেনি ৮১ তম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলা কুরাসাও।
তবে কুরাসাওয়ের মনোবল ভাঙার কাজ জার্মানি করেছে বিরতির আগে-পরে মিলিয়ে দুই মিনিটে দুই গোল করে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে অযথা ফাউল করে জার্মানিকে পেনাল্টি উপহার দেয় ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশটি, ফলাফল কাই হাভার্টজের গোলে ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি। বিরতি থেকে ফিরেই আবার গোল, ৪৭ মিনিটে কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন জামাল মুসিয়ালা।
হুট করে দুই গোল খেয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি কুরাসাও। দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময়টা জার্মানি আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। ৬৮ মিনিটে সুন্দর ফিনিশিংয়ে ন্যাথানিয়েল ব্রাউন আর বদলি হিসেবে নেমে ৭৮ মিনিটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উন্দাভ। গোলবন্যার শেষটাও হয়েছে হাভার্টজকে দিয়ে, ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন জার্মানির।
বড় জয়ের মাঝেও জার্মানি কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানকে আলাদা স্বস্তি দিবে ছয়জন আলাদা খেলোয়াড়ের গোল করার বিষয়টি। বিশেষ করে মেচা ও মুসিয়ালার প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে কোচের খুশি হওয়ারই কথা। দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় এই জয়ে তাই নির্ভারই থাকবে জার্মানরা।