জবিতে ছাত্রদল-শিবির-ছাত্রশক্তির সংঘর্ষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তিন ছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠান চলছিল।

তখন জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ সমসাময়িক বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কারের দাবিতে স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জকসুর ব্যর্থতা ও সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম ঢাকার জন্য তারা এসব করছে। আমরা দেখেছি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) তারা মব করার চেষ্টা করেছে। একইভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা মব করার চেষ্টা করছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তারা মব কালচার করে যাচ্ছে।

তবে জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেও ভাঙচুর চালানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার পেছনে কয়েকজন শিক্ষকেরও মদদ ছিল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন শিবিরের এই নেতা।

এ ব্যাপারে ছাত্রদল নেতা শামসুল আরেফিন বলেন, তাদের (শিবির) প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের। আবাসনের অধিকার রুখে দেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই প্রতিরোধ করেছে।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে আমাদের কয়েকজনকে আহত করেছে। এ ছাড়া ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখও আহত হয়েছেন। আমার মুখে, নাকে, পায়ে ও হাতে লাথি মারা হয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের দখলদারত্বের রাজনীতি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জুলাইয়ের একটি প্রোগ্রাম চলছিল। এমন সময় বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমরা ধারণা করছি জুলাইবিরোধী শক্তি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এতে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, আমরা খতিয়ে দেখব।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।