ফেসবুক পোস্ট নিয়ে খুবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাচেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, খুবি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এসময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার জন্য লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খান জাহান আলী হলসংলগ্ন গেটে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজেকে বিএল কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া সজল ফেসবুকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেন।

পোস্টটির সত্যতা ও ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে খাজা গেট এলাকায় ডাকেন।

এসময় স্থানীয় কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের বাধা দেন। পরে পোস্টটি তাদের সামনে পড়ে শোনানো হলে স্থানীয় কয়েকজন ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম সিরাজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সজলকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হলে স্থানীয় কয়েকজন বাধা দেন। তারা নিজেদের বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। পরে বিতর্কিত পোস্টটি তাদের সামনে পড়ে শোনানো হলে স্থানীয়রাই ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।'

তিনি বলেন, পোস্টটি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত হওয়ায় আমাদের দাবি ছিল বিষয়টির সুরাহা যেন বাইরের কেউ না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে আমরা তাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে আসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ রাতুল বলেন, ফেসবুক পোস্টের ঘটনা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কথা বলতে গেলে সেখানে স্থানীয় ২-৩ জন উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের খাজা গেটে আসতে বলা হলে অভিযুক্ত যুবকসহ তারা সেখানে আসেন। গেটে বসে কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে থাকা দুজন হঠাৎ উঠে ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের থামানোর চেষ্টা করেন এবং ওই যুবককে ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে আসতে চান। এ সময় বাইরে থাকা কয়েকজন বহিরাগত গেটে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে গেট সামান্য ফাঁকা করে তারা যুবকটিকে টেনে বাইরে নিয়ে যান। পরে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আবার ধরে আনা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা বাবু, মনিরুজ্জামান লেলিন ও রহিমের নেতৃত্বে পরে সেখানে আরও কিছু লোক জড়ো করা হয়। ওই যুবককে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা তাকে ফিরিয়ে এনে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেন।

একপর্যায়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আসা লোকজন শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এসময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার পর ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সজলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। এভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ইতোমধ্যে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের ঘটনার জন্য কারা লোকজন জড়ো করেছেন এবং এর পেছনে কারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে। সেখানেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি।