চুয়েটের শাটডাউন ১২তম দিনে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নতুন উপাচার্য নিয়োগের গেজেট বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ১২তম দিনে গড়িয়েছে।
এই আন্দোলনের কারণে আজ শনিবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের অনলাইন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করবেন বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘নবনিযুক্ত ভিসি অনলাইনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাই আজকের এই কর্মসূচি। অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল এবং চুয়েটের চলমান সংকটের দ্রুত সমাধানের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
আজকের কর্মসূচি
শিক্ষার্থীরা দুপুর দেড়টায় বিক্ষোভ মিছিল করবেন। পরে চুয়েটের বর্তমান অচলাবস্থা নিরসন এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চলবে। নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনের পটভূমি
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে ২৭ জুলাই তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। অর্থাৎ, দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় এই পরিবর্তন আনা হয়।
তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে।
এই সিদ্ধান্তের পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
নতুন উপাচার্য অনলাইনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে তার শারীরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছেন।
এদিকে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এখন পর্যন্ত সংকট নিরসনে সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।