জকসুতে ছাত্রশিবিরের বড় জয়

রাকিব মাদবর
রাকিব মাদবর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) অধিকাংশ পদে জয়ী হয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের প্রার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার দিন-রাত ভোট গণনা করে প্রশাসন।

কেন্দ্রীয় সংসদের ভিপি পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের মো. রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট।  

জিএস পদে শিবির সমর্থিত আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট। ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২২৩ ভোট। 

এজিএস পদে শিবির সমর্থিত মাসুদ রানা পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। ছাত্রদল সমর্থিত বি এম আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট।

মোট ১১টি সম্পাদকীয় পদের আটটিতে নির্বাচিত হয়ে শিবির সমর্থিত মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুর নবী পেয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ ভোট, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ইব্রাহীম খলিল পেয়েছেন ৫ হাজার ৫২৪ ভোট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মোসা. সুখীমন খাতুন পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে হাবিব মো. ফারুক আযম পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে নওশীন নাওয়ার জয়া পেয়েছেন ৪ হাজার ৫০১ ভোট, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাঈম পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৬৩ ভোট, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে নূর মোহাম্মদ পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৭০ ভোট, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৬ ভোট।

ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার সমর্থিত প্যানেল সম্পাদকীয় পদ পেয়েছে তিনটি। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মো. তাকরিম মিয়া পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট, পরিবহন সম্পাদক পদে মো. মাহিদ হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ২৩ ভোট, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট।

কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন—ফাতেমা আক্তার, মো. আকিব হাসান, শান্তা আক্তার, মো. মেহেদী হাসান ও মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক। এছাড়া ছাত্রদল সমর্থিত মো. সাদমান আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাহিদ হাসান জয়ী হয়েছেন।

জবির একমাত্র ছাত্রী হল সংসদে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে জয়ী 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেল। ঘোষিত ফলাফলে ভিপি পদে ৫৫০ ভোটে জয়ী হয়েছেন 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের মোছা. জান্নাতুল উম্মি তারিন। ছাত্রদল সমর্থিত 'অপরাজিতার অগ্রযাত্রা' প্যানেলের ফারজানা আক্তার রিমি পেয়েছেন ২৩৬ ভোট। 

জিএস পদে 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের সুমাইয়া তাবাসসুম পেয়েছেন ৫৭১ ভোট। ছাত্রদল সমর্থিত সাদিয়া সুলতানা নেলি পেয়েছেন ২৩৬ ভোট। 

এজিএস পদে 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের রেদওয়ানা খাওলা পেয়েছেন ৫৪৫ ভোট। ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তাসলিমা জাহান মুন পেয়েছেন ৪০৪ ভোট। 

হল সংসদে সম্পাদকীয় পদগুলোর মধ্যে সংস্কৃতি সম্পাদক পদে 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের ফাতেমা তুজ জোহরা (ইমু) পেয়েছেন ৩৪৬ ভোট, পাঠাগার সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা সামিয়া পেয়েছেন ৫৩৯ ভোট, ক্রীড়া সম্পাদক সাবিকুননাহার পেয়েছেন ৬৩৫ ভোট, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে ফারজানা আক্তার পেয়েছেন ৪০৮ ভোট, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক খাদিজা খাতুন ৪৮৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ফারজানা আক্তার ৪৮৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন সাবরিনা আক্তার, নওশীন বিনতে আলম, মোছা. সায়মা খাতুন ও ছাত্রদল সমর্থিত লস্কর রুবাইয়াত জাহান।

জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৭৭ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৩৭ জন। নির্বাচনে চারটি প্রধান প্যানেলের অধীনে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।