এসএসসির পুনঃনিরীক্ষণে উত্তীর্ণ ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০৭৯ জন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নতুন করে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন।
আজ বৃহস্পতিবার পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফলে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৫ দাঁড়িয়েছে।
কমিটির তথ্য অনুসারে, পুনঃনিরীক্ষণের পর ৫৬ হাজার ২৫৯ শিক্ষার্থীর নম্বরে পরিবর্তন এসেছে। আর ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর গ্রেড বা জিপিএ সংশোধন করা হয়েছে।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ শিক্ষার্থী ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ফেল থেকে পাস করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ডে। সেখানে ১ হাজার ১৮০ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এরপর রয়েছে দিনাজপুর বোর্ড, যেখানে ৮৬৭ শিক্ষার্থী পাস করেছে। যশোর বোর্ডে এই সংখ্যা ৩৮০।
ঢাকায় ৩৩৭ জন, কুমিল্লায় ৩৩৬, চট্টগ্রামে ১৯০, সিলেটে ১৮৬, রাজশাহীতে ১১১ ও বরিশালে ৭৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
মাদ্রাসা বোর্ডে ২৫৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৬৬৪ শিক্ষার্থী নতুন করে পাস করেছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় দুই ধাপে উত্তরপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়েছে।’
শিক্ষকদের মূল্যায়নের ধরনও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, যোগ করেন তিনি।
আখতারুজ্জামান মনে করেন, ‘নিঃসন্দেহে শিক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে।’
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নম্বর সামান্য বাড়লেও তা একজন শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত গ্রেডে প্রভাব ফেলতে পারে। ‘উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে ৭৫ নম্বর পেয়ে থাকতে পারে, কিন্তু পুনর্মূল্যায়নের সময় দেখা গেল, সে ৮০ নম্বর পাওয়ার যোগ্য। সামান্য নম্বর বাড়লেও জিপিএ-তে পরিবর্তন আসতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, পুনঃনিরীক্ষণের পর ভালো ফল করা কিছু শিক্ষার্থীর ফলাফলেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
‘ভালো শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন ইতিবাচক হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণ যথার্থ ছিল এবং এটি যে প্রয়োজন ছিল—তা স্পষ্ট।’
চলতি বছরের শুরুতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হয়। মূল ফলাফলে দেখা যায়, ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
সংশোধিত ফলাফল প্রকাশের আগে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬।