যে কারণে আমেরিকানরা ‘জেড’-কে ‘জি’ বলে

আহমেদ হিমেল
24 February 2023, 07:01 AM
UPDATED 24 February 2023, 15:52 PM

দুটোই ইংরেজি ভাষা হলেও ব্রিটিশ ইংলিশ এবং আমেরিকান ইংলিশের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। Colour বানানে একটা বাড়তি 'u' থাকার মতো ছোট পার্থক্যের পাশাপাশি 'boot' এবং 'casket' এর মতো শব্দগুলোর অর্থ পুরোপুরি আলাদা হওয়ার মতো পার্থক্যও আছে। এমন একটি পার্থক্য হচ্ছে ইংরেজি বর্ণমালার শেষ অক্ষরটি। ব্রিটিশরা এটিকে 'জেড' উচ্চারণ করলেও আমেরিকান ইংরেজিতে এর উচ্চারণ 'জি'। 

ব্রিটেনে যদি কেউ একদল মানুষের সবাইকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলতে চান, তাহলে বলবেন 'Everyone from A to Zed'। কিন্তু কোনো আমেরিকান এটি শুনলে তার কাছে অদ্ভুত মনে হতে পারে কারণ তারা 'Everyone from A to Zee' শুনে অভ্যস্ত। শুধু ব্রিটেনেই নয়, প্রায় সব ইংরেজি ভাষাভাষী দেশে এই অক্ষরটিকে 'জেড' উচ্চারণ করা হয়। 

বাকি বিশ্ব থেকে নিজেদেরকে আলাদা করতে আমেরিকানরা বিভিন্ন জিনিসকে নিজেদের মতো পরিবর্তন করে নেয়। যেমন- সারা বিশ্বে পরিমাপের একক হিসেবে মেট্রিক সিস্টেম ব্যবহৃত হলেও আমেরিকায় নন-মেট্রিক সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। তাপমাত্রা পরিমাপেও দেশটি ফারেনহাইট একক ব্যবহার করে, যেটি বিশ্বের আর প্রায় কোথাও ব্যবহৃত হয় না। 

তবে 'জেড' এবং 'জি'-এর পার্থক্যটির পেছনে কিছু যৌক্তিক কারণ আছে। 

ইংরেজির আধুনিক বর্ণমালার প্রায় সবগুলোই এসেছে সরাসরি গ্রিক থেকে। বর্তমানে 'Z'-এর দেখতে একটি অক্ষরকে গ্রিকরা ডাকতো 'জেটা' নামে। এই 'জেটা' নামটি যখন ফ্রেঞ্জ ভাষায় যায়, তখন নাম হয় 'জেডে', যা থেকে পরবর্তীতে ইংরেজিতে এসে হয় 'জেড'। উল্লেখ্য, ইংরেজি ভাষার ওপর ফ্রেঞ্চের মতো অন্যান্য রোমান ভাষাগুলোর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।  

ইংরেজির বর্তমান বর্ণমালাগুলো যখন সুপ্রতিষ্ঠিত, তখন 'জি বা zee' এর উদ্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের হাসন ইউনিভার্সিটির কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. অ্যাডাম ক্রওলি মনে করেন এই পার্থক্যটা হয়েছে 'আঞ্চলিক উচ্চারণের' কারণে। 

তিনি বলেন, 'পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীতে আটলান্টিকের ২ পাড়েই বিভিন্ন নথিতে 'জেড' এবং 'জি' উভয় উচ্চারেই ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ড. ক্রওলির ধারণা 'জি' উচ্চারণের সঙ্গে  বি(B), সি(C) এবং পি(P) বর্ণগুলো দিয়ে ছন্দ মেলানো সহজ হওয়ায় এটি তুলনামূলিক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইংরেজি বর্ণমালায় আর কোনো অক্ষরের উচ্চারণই 'এড' দিয়ে শেষ হয়নি। 'জি' উচ্চারণটি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে এটাও একটা যুক্তি হতে পারে।  

কিন্তু যুক্তরাজ্যে আসলে কখনোই 'জি' উচ্চারণটি হালে পানি পায়নি। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে ঘটনা ছিল পুরো উল্টো। আমেরিকার রিভোলোশনারি ওয়ারের পর মার্কিনিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের থেকে ভিন্নভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করতে থাকে। ভাষা ছিল এই চেষ্টার অন্যতম অনুষঙ্গ। এই যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন নোয়াহ ওয়েবস্টার। তিনি 'আমেরিকান ইংরেজি' এর ওপর ডিকশনারি প্রকাশ করা শুরু করেন, যেখানে ব্রিটিশ ইংরেজির চেয়ে বিভিন্ন শব্দ ও টার্মে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। 'Z' এর উচ্চারণের ক্ষেত্রেও ব্রিটিশদের থেকে ভিন্নতা আনতে তিনি 'জি' ব্যবহার শুরু করেন এবং এটিকে 'অফিশিয়াল' আমেরিকান উচ্চারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। 

তবে এরপরও যদি 'জেড' হবে নাকি 'জি' হবে, এমন কোনো বিতর্ক আমেরিকায় থেকে থাকে, সেটি চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে একটি ঐতিহাসিক গান। ১৮৩৫ সালে প্রকাশিত এই গানটির নাম ছিল 'দ্য অ্যালফাবেট সং'। এই গানে ইংরেজি বর্ণমালাগুলোর উচ্চারণ ছিল এবং গানটিতে 'Z' এর উচ্চারণ করা হয়েছে 'জি'। এই গানটি এত জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে আমেরিকান শিশুরা স্বায়ংক্রিয়ভাবেই 'জি' উচ্চারণ শুনে শুনেই বড় হয়েছে। এমনকি তখন আমেরিকার বাইরে অন্য শিশুরাও এই গান থেকে শিখে 'জেড'কে 'জি' উচ্চারণ করা শুরু করে এবং শিক্ষকদেরকে পুনরায় শিশুদেরকে এই অক্ষরটির উচ্চারণ শেখাতে হতো।