আসাম-মেঘালয়ে বৃষ্টির পূর্বাভাসে হাওর এলাকায় ফের অকাল বন্যার শঙ্কা

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

দেশের হাওর এলাকায় আবারও অকাল বন্যার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির মতে, ২ দিনের মধ্যেই উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল নামতে পারে। আজ শনিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দৈনিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশে পাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এর প্রভাবে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হওয়া বয়ে যেতে পারে। এছাড়া বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য জায়গায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।

তবে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

আজ শনিবার দুপুরে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ১১ বা ১২ এপ্রিল থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। টানা বৃষ্টি না হলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে গেলে আমাদের হাওর এলাকায় ফ্ল্যাশ ফ্লাড দেখা দিতে পারে।'

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আবারও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সেটা সপ্তাহের শেষের দিকে হতে পারে। গতবারের মতো তীব্র না হলেও নদ-নদীগুলোর যে পরিস্থিতি আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেই পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এর আগে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবারও আমরা এই তিনটি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি।'

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ২ থেকে ৩ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ মাঝারি বা তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্য জায়গায় ৩ থেকে ৫ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা ও মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে।

চলতি মাসে দেশের কোথাও কোথাও ২ থেকে ৩টি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও মাঝারি (৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ মাসে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, গত মার্চ মাসে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টিপাতের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে পূবালী বায়ুপ্রবাহের সংযোগ ঘটায় ২৪ ও ২৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হওয়া বয়ে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় তাপীয় লঘুচাপ অবস্থান করায় ১৫ থেকে ২০, ২৩ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ১৯ মার্চ রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ১ মার্চ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়। পরের দিন এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ৪ মার্চ নিম্নচাপ ও ৫ মার্চ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় ১৬ মার্চ একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়। এটি উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ২০ মার্চ নিম্নচাপ এবং ২১ মার্চ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় ৬টার দিকে এটি মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করে। এরপর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

মার্চ মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।