কালবৈশাখীতে উপড়ে গেছে মহাসড়কের ৬০ গাছ, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ঠাকুরগাঁও

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও 

ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উপজেলায় গত মধ্যরাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুরো জেলা গতরাত সোয়া ১২টা থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন আছে। 

বিভিন্ন থানার পুলিশ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঘরবাড়িসহ আম, লিচু, ভুট্টা ও অন্যান্য উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।    

এদিকে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষত সড়ক, মহাসড়কের পাশে গাছ ও গাছের ডালপালা বৈদ্যুতিক তারের উপর ভেঙ্গে পড়ায় এবং কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিক তারের খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার রাত সোয়া বারটার দিকে শুরু হওয়া ৩০ মিনিটের অধিক সময় স্থায়ী কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।

ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঝড়ের সময় বৃষ্টিসহ বাতাসের প্রবল বেগের কারণে বিশাল আকৃতির পুরনো গাছ সড়ক-মহাসড়কের ওপর ভেঙ্গে পড়ে। এতে যান চলাচল ব্যহত হয়।' 

তিনি বলেন, 'পঞ্চগড়-দিনাজপুর মহাসড়কের এগার মাইল মুজাবর্ণী গ্রাম থেকে উনত্রিশ মাইল পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার রাস্তাসংলগ্ন এবং ঠাকুরগাঁও থেকে পীরগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন এলাকায় ৫০-৬০টি গাছ রাস্তার ওপর উপড়ে পড়ে। ভোর পর্যন্ত স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পুলিশ গাছগুলো সরিয়ে পুনরায় যান চলাচলের ব্যবস্থা করে। 

এছাড়াও ঠাকুরগাঁও শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে রোড রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত সড়কে শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে বটগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রাস্তার ওপর উপড়ে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, আধা ঘণ্টার অধিক সময় ধরে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে ঘরবাড়ী, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার শুকানপুখুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান জানান, প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় ইউনিয়নের প্রায় কয়েকশ ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। অনেক বাড়ি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল জানান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, আম ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, গররাতে ঝড়ে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের জন্য মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে কী পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে তা বলা যাবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ঝড় শেষ হবার পর থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। অনেক জায়গায় গাছপালা বৈদ্যুতিক তারের উপর পড়ায় এবং বিভিন্ন এলাকায় খুঁটি উপড়ে পড়ায় পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে সময় লাগবে। তবে কেমন সময় লাগবে তা এই মুহূর্তে বলা কঠিন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সহযোগিতা করা হবে।