টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, করটিয়া-সিলিমপুর বাঁধে ভাঙন

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল

যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও এর শাখা ধলেশ্বরী ও ঝিনাইসহ অনান্য নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে কমপক্ষে ছয়টি উপজেলার চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে ভাঙন।

এসব এলাকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও ধলেশ্বরী, ঝিনাইসহ অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ইতোমধ্যে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ হিসাবে পরিচিত করটিয়া-সিলিমপুর বাঁধের সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের পাছবেথইর অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন। আগামীকাল রোববার থেকে সেখানে মেরামত কাজ শুরু হবে।

ভূঞাপুর উপজেলার গারাবাড়ি এলাকায় যমুনা নদীর তীরে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি রাস্তা পরিদর্শনকালে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলোর দিকে সতর্ক নজর রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও নদী ভাঙনে যারা ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন তাদের মধ্যে খাদ্য, ঢেউটিন এবং নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ভাঙনে যারা জমি এবং ঘর দুটোই হারিয়েছেন তাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পূনর্বাসিত করা হবে।