টাঙ্গাইলে যমুনায় পানি বাড়ছে, ভাঙনে বিলীন অনেক স্থাপনা

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল

উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। সেই সাথে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত টাঙ্গাইলে পোড়াবাড়ি পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার শাখা ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপরে প্রবা‌হিত হ‌চ্ছে। 

পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনার চরাঞ্চলসহ টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, কালিহাতী, ভূঞাপুর ও বাসাইল উপজেলার অর্ধশতা‌ধিক নতুন গ্রাম বন্যার কবলে পড়েছে। ঘর-বাড়ি প্লাবিত হওয়ায় মানুষ তাদের গবাদিপশু নিয়ে বাঁধ ও রাস্তাসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। 

কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ী এলাকার আমেনা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বসতঘরে পানি ওঠায় পরিবারের সদস্য এবং গবাদিপশু নিয়ে দুই দিন আগে বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে খাবার পানি, টয়লেট এবং গোখাদ্যের অভাবে ভুগছেন। কোনো ধরনের সহায়তা নিয়ে কেউ আসেননি তাদের কাছে।

নদী ভাঙন

পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। ভাঙনে টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, ভূঞাপুর ও বাসাইলের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের শতাধিক বসতভিটা, মসজিদ, বাঁধসহ নানা স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

tangail_flood_news_picture-4.jpg
ঝিনাই নদীর পানি বেড়ে স্রোতে ভেঙে গেছে বাসাইল- নাটিয়াপাড়া সড়ক। ছবি: সংগৃহীত

ভূঞাপুরের ভালকুটিয়া এলাকার রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সকালে বন্যার পানির তোড়ে গ্রামের পাকা রাস্তাটি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়াও গ্রামের পাকা মসজিদটি ভাঙনের মুখে রয়েছে। গ্রামের মানুষ মাটিভর্তি বস্তা ফেলে মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করছে। 

কালিহাতীর আলীপুর গ্রামের রমজান আলী বলেন, যমুনার ভাঙনের মুখে পড়ায় তার বসতভিটা সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। 'এর আগেও তিনবার বাড়ি সরাইছি,' বলেন তিনি। 

কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার জানান, বন্যায় তার ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামগুলোর প্রায় শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে আছে আরও শতাধিক ঘর-বাড়ি। 

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। কিন্তু পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন বন্ধ করা যাচ্ছে না। পানি কমলে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি জানিয়েছেন, আজ থেকে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়াও উপদ্রুত এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করছে।