বন্যায় তলিয়ে গেছে চারণভূমি, গবাদিপশুর খাদ্য সংকট চরমে

আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু, পাবনা

প্রতি বছরের মতো এ বছরও বন্যায় ভাসছে সিরাজগঞ্জ। জেলার নদী পারের চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার মানুষের পাশাপাশি মহা সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম গবাদিপশু সমৃদ্ধ এ জেলা। বন্যায় গবাদিপশুর চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে জেলার প্রায় লক্ষাধিক গবাদি পশু। বন্যা দুর্গতরা নিজেদের চেয়ে গবাদি পশুর সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বন্নি দরতা গ্রামের কৃষক সুরাল সর্দার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অভাবের সংসারে কষ্ট করে হলেও দুটি গরু পালন করে আসছিলাম। চরের জমিতেই জুটত গরুর খাবার। বন্যায় চরের পুরো এলাকা এখন জলাবদ্ধ। কোথাও নেই গবাদিপশুর চারণভূমি।'

নিজেরা দুবেলা খেতে না পারলেও গরুও খাবার জোগাড় করতে প্রতিদিন দূরের কোনো এলাকা থেকে কিছু ঘাস বা খর জোগাড় করে নিয়ে আসতে হয়। অনেক সময় গরুগুলোকে বন্যার পানিতে সাঁতরিয়ে অন্য কোথাও উঁচু জমিতে নিয়ে যেতে হয় বলে জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেরবারি চরের বাসিন্দা সুজন মিয়া জানান, বন্যায় নদী ভাঙনে তাদের বসত বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় এখন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন তারা। তবে বিপাকে পরেছেন গবাদিপশু নিয়ে।

2.jpg
বন্যায় তলিয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকার গো-চারণভূমি। ছবি: স্টার

বন্যার পানিতে বেশিরভাগ গো-চারণভূমি তলিয়ে গেছে। চরের কিছু উঁচু ভিটা এখনো পানিতে তলিয়ে না যাওয়ায় প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ নদীতে পারি দিয়ে ঘাস কাটতে আসতে হয় তাকেবন্যায় গো-চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় বাজার থেকে চড়া মূল্যে শুকনো খাবার কিনে গবাদিপশু পালনের ক্ষমতা তাদের নেই। সে কারণে প্রতিদিন নিজেদের খাবার না জুটলেও গবাদিপশুর খাদ্য জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান সুজন।

যমুনায় পানি বাড়ার ফলে সিরাজগঞ্জের পাঁচ উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এতে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে গবাদিপশু।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জে প্রায় আট দশমিক ৭৮ লাখ গরু, তিন দশমিক পাঁচ লাখ ছাগল ও এক লাখ ভেড়া আছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সিরাজগঞ্জের চার উপজেলায় এক দশমিক শূন্য আট লাখ গরু, ৭৯ হাজার ছাগল এবং প্রায় ২০ হাজার ভেড়া বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যায় এসব এলাকার প্রায় ১৫৪ একর গো-চারণভূমি তলিয়ে গেছে। এতে করে এসব এলাকায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।'

3.jpg
চরের কিছু উঁচু ভিটায় অল্প জায়গায় অনেক পশু চড়তে দেখা গেছে। ছবি: স্টার

এ ছাড়া, বন্যা কবলিত এলাকায় গবাদিপশুর বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। বন্যা কবলিত এলাকার গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বন্যায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর, শাহজাদপুর এবং চৌহালি উপজেলার গবাদিপশু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান এই প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে গবাদিপশু পালনের সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

গবাদিপশু সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জে সংকট কাটিয়ে উঠতে গবাদিপশু পালকদের সরকারি সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।