মানিকগঞ্জে বন্যার আশঙ্কায় ১ লাখ মানুষ
গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা, পদ্মাসহ মানিকগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সব নদীতে পানি বাড়ছে। এতে দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের মানুষেরা।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আরিচা পয়েন্টে পানির স্তর পরিমাপক (গেজ রিডার) ফারুক হোসেন আজ মঙ্গলবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সোমবার বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে বেড়েছে চার সেন্টিমিটার। নদীর পানির উচ্চতা এখন নয় দশমিক ৪৯ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার নয় সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।'
মানিকগঞ্জ পাউবো ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জেলার দৌলতপুরে যমুনা ও হরিরামপুরে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত কাঞ্চনপুর, সুতালড়ি, লেছড়াগঞ্জ, আজিমনগর, ধূলশুড়া, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। অনেক স্থানে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আলগিচর এলাকার রাস্তা ও অধিকাংশ ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য প্রকৌশলী সালাম চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হরিরামপুরে প্রবল ভাঙন দেখা দিয়েছে। এবারের বর্ষায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নিচু এলাকার বাসিন্দারা।'
দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তোফাজ্জাল হোসেন জানান, নদীতে পানি বাড়ায় তার ইউনিয়নের রামনারায়ণপুর, ব্রাহ্মণদী, কাশি দয়ারামপুর, পুরানপাড়াসহ আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকে। এ ছাড়া, বাঘুটিয়া উত্তর পাড়ার অনেকখানি এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকিতে আছে আশপাশের অনেক বসতভিটা, ফসলি জমি ও হাটবাজার।
বাচামারা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ জানান, ইউনিয়নের সুবুদ্ধি পাচুরিয়া, চর ভারাঙ্গা, বাদুটিয়া, কোল হাসাদিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় অর্ধশতাধিক বসতভিটায় পানি উঠেছে। দৌলতপুর উপজেলা সদর থেকে বাচামারা যাতায়াতের রাস্তাটিও পানিতে তলিয়ে গেছে।
দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম জানান, উপজেলার বাঘুটিয়া, বাচামারা, চরকাটারী, জিয়নপুর ও খলসি এই পাঁচ ইউনিয়ন নদী ভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকা। অব্যাহত পানি বাড়ার কারণে বন্যার শঙ্কায় আছেন হাজারো মানুষ। আর নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
শিবালয় উপজেলাতেও যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের নিচু এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। শিবালয় সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আলোকদিয়া, মধ্যনগর, ত্রিশুন্ডী ও গঙ্গাপ্রসাদসহ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন এখানকার মানুষজন। গোখাদ্যের সংকটে গবাদি প্রাণী নিয়ে অনেকে বিপাকে পড়েছেন।'
জানতে চাইলে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, 'বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খাদ্য সহায়তা থেকে শুরু করে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।'