মানিকগঞ্জে যমুনা, ধলেশ্বরীসহ অভ্যন্তরীণ নদীতে পানি বাড়ছে
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
যমুনার পানি বাড়ায় পদ্মা এবং জেলার অভ্যন্তরীণ কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও ইছামতিসহ সব নদীতে পানি বাড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, অনেক এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডর পানির স্তর পরিমাপক মো. ফারুক হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'শনিবার বিকেল ৩টা থেকে আজ রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত, ২৪ ঘণ্টায় আরিচা পয়েন্টে যমুনার পানি ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইসময়ে কালীগঙ্গা নদীর পানি তরা পয়েন্টে বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। তবে, তা বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।'
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধলেশ্বরী নদীর পানি জাগির পয়েন্টে সাত সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে, এ নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই নদীর পানির স্তর পরিমাপক বদর উদ্দিন।
এছাড়া পদ্মা, ইছামতি, গাজীখালি, কান্তাবতী নদীর পানিও বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। গত দুই সপ্তাহে হরিমাপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ শতাধিক বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি।
দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা, বাঘুটিয়া ও চরকাটারি, শিবালয় উপজেলায় অন্বয়পুর, কাশাদহ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কুশেরচর, সিংগাইর উপজেলার জামশা এবং ঘিওর উপজেলায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, '৫০ কিলোমিটার এলাকা পদ্মা ও যমুনা নদীর পাড় হওয়ায় প্রতি বছর এসব এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে। গুরুত্ব বিবেচনায় ১৩ দশমিক ৮ কিলোমটিার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া, আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।'