যমুনার ভাঙনে বিলীনের পথে সিরাজগঞ্জের জালালপুর গ্রাম
কয়েক মাস আগেও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর গ্রামে ছিল প্রায় ছয় শতাধিক বাড়ি-ঘর, স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বর্ষার আগেই ভাঙনের কবলে পড়ে গ্রামটি। বর্ষা শুরুর পরে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যমুনার ভাঙনে গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক বাড়ি-ঘর, স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গ্রামের বেশির ভাগ অবকাঠামো বিলীন হয়ে গেছে।
পানি বন্দি জীবন ও ভাঙনে দিশাহারা জালালপুর গ্রামের বাসিন্দারা। উপার্জনের পথ ও মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত শনিবার থেকে যমুনার পানি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা। অনেকেই তাদের ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি।
ভাঙনে বাস্তুচ্যুত আমানত আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শনিবার রাতে যখন সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি তখন নদীর গর্জন শুরু হয়। ভাঙনের আশঙ্কায় আমরা ঘর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চোখের সামনে আমার পুরো বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেল। আসবাবপত্রও সব বের করার সুযোগ পাইনি।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মো. সাইদ বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই নদী ভাঙন চলছে। তবে শনিবার ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল।
জালালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহির উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, এই ইউনিয়নের প্রধান গ্রাম জালালপুর। নদী ভাঙনে পুরো গ্রামই এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। কয়েক মাস আগেও এই গ্রামে প্রায় সাড়ে ৬০০ ঘর-বাড়ি ছিল। ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক বাড়ি, একটি স্কুল, একটি মসজিদ নদীগর্ভে চলে গেছে। গ্রামে এখন মাত্র এক-দেড় শ বাড়ি-ঘর অবশিষ্ট আছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নদীতে ঘর বাড়ি হারিয়ে অসহায় এসব মানুষ খেয়ে-না খেয়ে দিন পার করছে। জালালপুরের বাসিন্দা শাহিন আলী বলেন, ভাঙনে সব হারিয়ে গেছে। ছন্নছাড়া জীবন কাটছে। কখনো খাবার জুটছে, কোনো বেলায় না খেয়ে থাকছি। আবার কখনো নিজের বাড়ি হবে কি না জানি না।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জালালপুর গ্রামে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ইতোমধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনেও স্থানীয় প্রশাসন সহায়তা করবে। নদীপারের এই গ্রাম রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডও প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, শাহজাদপুর উপজেলার ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও (বালু ভর্তি) ব্যাগ ফেলেছে। স্রোতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাতে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া এখানে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব না। ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় সাড়ে ছয়শ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষ হলেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।