সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীগুলোর পানি বেড়ে ক্রমেই অবনতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যমুনা নদী সিরাজগঞ্জের হার্ড পয়েন্ট এলাকায় আজ বুধবার সকালে ১৩ দশমিক ৮৪ মিটার উচ্চতায় বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং কাজিপুর উপজেলায় ১৫ দশমিক ৭৭ মিটার উচ্চতায় বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।'
যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজর, করতোয়া, বরালসহ অন্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বন্যায় সিরাজগঞ্জের পাঁচ উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা, শাহজাদপুর উপজেলা, চৌহালি উপজেলা, কাজিপুর উপজেলা এবং বেলকুচি উপজেলার নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে।'
বন্যা কবলিত এসব এলাকায় ইতোমধ্যে ৭০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, তবে এখনও কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি বলে জানান এই ত্রাণ কর্মকর্তা।
সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেকেই ঘর ছেড়ে দিলেও আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে বাড়ির কাছাকাছি কোথাও আশ্রয় নিয়েছেন।
বন্যা কবলিত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর গ্রামের জয়নাল মোল্লার বাড়িতে পানি উঠেছে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে ঘরে অবস্থান করতে না পারায় তিনি বাড়ির কাছে উঁচু রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। একই অবস্থা জেলার বন্যা কবলিত এলাকার অন্য বাসিন্দাদের। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ, উঁচু রাস্তায় অবস্থান করছেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা।
ত্রাণ কর্মকর্তা জানান, বার বার বলার পরও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে নিজেদের এলাকাতেই অবস্থান করছেন।
এদিকে, বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি হয়ে পরায় সিরাজগঞ্জে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা।