সিরাজগঞ্জে ২৫ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার পাঁচটি উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, নিচু এলাকার রাস্তা, ব্রিজ তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যমুনা নদী সিরাজগঞ্জের হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ১৩ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং কাজিপুর উপজেলায় ১৫ দশমিক ৬৭ মিটার উচ্চতায় বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।'

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা, শাহজাদপুর উপজেলা, চৌহালি উপজেলা, কাজিপুর উপজেলা ও বেলকুচি উপজেলার নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজর, করতোয়া, বরালসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বন্যায় সিরাজগঞ্জের পাঁচ উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তবে, এসব এলাকার ফসলি জমি ও নিচু এলাকা তলিয়ে গেলেও, এখনও অধিকাংশ বাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়নি।'

পানিবন্দী এসব এলাকার এনেকেই এখনও নিজেদের বাড়িতেই আছেন বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানিবন্দী হয়ে পড়ায় অনেকেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া, পানিবন্দী এসব এলাকার রাস্তা, ব্রিজ তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রূপসী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রূপসী-জালালপুর এর রাস্তা ও ব্রিজ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে, সড়ক পথে এসব গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এখন নৌকায় করেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হচ্ছে আমাদের।'

সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নিচু এলাকার অনেক রাস্তায় পানি উঠেছে। তবে, কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।'

যোগাযোগ করা হলে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হানিফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বন্যায় সিরাজগঞ্জের চার হাজার ৩৬২ হেক্টর ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৯৪১ হেক্টর জমিতে সদ্য রোপণকৃত আমন ধান আছে।'

পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

বন্যার পর ফসলের ক্ষতির প্রকৃত হিসাব পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।