নিরাপত্তা চেয়ে মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কমিশনের কাছে খায়রুজ্জামানের আবেদন
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন সে দেশে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামান। বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিনা কারণে তাকে শাস্তি দেবে উল্লেখ করে তিনি এ আবেদন করেন।
আজ মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার জেরাল্ড জোসেফ দ্য ডেইলি স্টারকে টেলিফোনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশ সরকার তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি ভয়ে আছেন। তিনি মনে করছেন যে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার পর বিনা কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। এজন্য তিনি আমাদের কাছে সাহায্য পেতে আবেদন করেছেন।'
তিনি জানান, খায়রুজ্জামান একটি লিখিতভাবে অভিযোগে জানিয়েছেন যে তাকে বাংলাদেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি দুর্নীতির মামলার জড়ানো হচ্ছে।
মানবাধিকার কমিশন কী ব্যবস্থা নেবে জানতে চাইলে জেরাল্ড জোসেফ বলেন, 'তাকে যেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না হয় এবং মালয়েশিয়া সরকার যেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, কমিশন সরকার ও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তার ব্যবস্থা করবে।'
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার থাকাকালে খায়রুজ্জামান অবৈধভাবে ১ কোটি ৫৮ লাখ আয় করেছিলেন, এমন অভিযোগে ২ সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা করে।
গত ১৩ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দুদকের উপপরিচালক আনোয়ারুল হক এ মামলার করেন।
মামলায় বলা হয়, খায়রুজ্জামান গৃহস্থালি সামগ্রী ক্রয়, যাতায়াত, রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা বিল, ডাক, এসি মেরামত, টেলিফোন, শিশুদের এয়ার প্যাসেজসহ বিভিন্ন ব্যয়ের নামে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন।
খায়রুজ্জামান ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ২০০৪ সালে নিম্ন আদালত থেকে তিনি খালাস পান এবং পরে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ খালাসের আদেশ বহাল রাখেন।
২০০৭ সালে তাকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে তাকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করলেও, নির্যাতনের ভয়ে তিনি আর দেশে ফেরেননি।
এরপর থেকে শরণার্থী কার্ড নিয়ে তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন।
চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজাহ জয়নুদিন তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের ৫ দিন পর খায়রুজ্জামান মুক্তি পান।

