‘আরিয়ান খানকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে’

স্টার অনলাইন ডেস্ক

গত ৪ নভেম্বর মুম্বাই পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল মুম্বাই ক্রুজ ড্রাগস মামলার একজন সাক্ষী বিজয় পাগারের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তিনি দাবি করেছেন, গত ২ অক্টোবর ক্রুজ জাহাজের অভিযানটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। অর্থ উপার্জনের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ানকে ফাঁসিয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজয় পাগারে আরও দাবি করেন, তিনি গত কয়েক মাস ধরে সুনীল পাতিলের সঙ্গে ছিলেন। সুনীলের কাছ থেকে পাওনা অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন তিনি।

মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা মোহিত কাম্বোজের একটি অভিযোগের পর এই মামলায় সুনীল পাতিলের নাম প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

মোহিত কাম্বোজ দাবি করেন, সুনীল পাতিল এই মামলার 'মাস্টারমাইন্ড' এবং জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

এনসিবি জোনাল পরিচালক সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্তে জন্য গত ২৭ অক্টোবর গঠিত মুম্বাই পুলিশের বিশেষ তদন্ত দলকে দেওয়া জবানবন্দিতে সাক্ষী বিজয় পাগারে নিম্নলিখিত ঘটনাবলী বর্ণনা করেছেন।

সাক্ষী কী বলেছেন?

ধুলের বাসিন্দা সাক্ষী বিজয় পাগারে দাবি করেছেন, তিনি সুনীল পাতিলের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। যাতে তার পাওনা অর্থ ফেরত পেতে পারেন।

ইন্ডিয়া টুডেকে বিজয় পাগারে বলেছেন, আমি তাকে ২০১৮ সালে কিছু কাজের জন্য অর্থ প্রদান করেছিলাম। তিনি কাজটি করেননি এবং আমার টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। তাই, তিনি যেখানেই যান না কেন আমি তাকে অনুসরণ করতাম। আমি তার সঙ্গে আহমেদাবাদের সুরাত হোটেল এবং মুম্বাইয়ের ললিত হোটেল ও ফরচুন হোটেলে ছিলাম।

'বড় কাম হো গায়া'

বিজয় পাগারে আরও বলেছেন, সুনীল পাতিল ২৭ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের ফরচুন হোটেলে ছিলেন। তার মতে, সাক্ষী কেপি গোসাভির নামেও একই হোটেলে একটি রুম বুক করা হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, অভিযানের কয়েক দিন আগে সাক্ষী মণীশ ভানুশালী, কেপি গোসাভি এবং সুনীল পাতিল হোটেল দেখা করেছিলেন।

বিজয়ের জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি হোটেলের ঘরে ছিলেন যখন মণীশ ভানুশালী সুনীল পাতিলকে বলেছিলেন, 'বড় কাম হো গায়া (বড় কাজ হয়েছে)। আমাদের আহমেদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। কিন্তু, পাগারেকে সঙ্গে নেবেন না।'

'পূজা ও স্যামের নাম'

অভিযোগ, গত ৩ অক্টোবর মণীশ ভানুশালী মুম্বাইয়ের হোটেল রুমে ফিরে আসেন। তিনি বিজয় পাগারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তাকে তার টাকা নিতে যেতে বলেছিলেন। তারপর তারা দু'জন এনসিবির অফিসে যায়। বিজয় পাগারে দাবি করেন, পথে মণীশ ভানুশালী ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং পূজা, স্যাম ও ময়ূরসহ অন্যান্য নাম নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, কেপি গোসাভির ফোন বন্ধ এবং সন্দেহ করা হচ্ছে তিনি টাকা পেয়ে পালিয়েছেন।

এনসিবি অফিসে পৌঁছানোর পরের ঘটনা বলতে গিয়ে বিজয় পাগারে বলেন, তিনি মিডিয়াকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন এবং তাকে বলা হয়েছিল, আরিয়ান খানকে এনসিবি আটক করেছে। পরে, তিনি ক্রুজ পার্টির অভিযানের একটি সংবাদ ক্লিপ দেখেন। তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে অভিযানটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল।

বিজয় পাগারের মতে, তিনি আদালতে আরিয়ান খানের আইনজীবী সতীশ মানেশিন্ডের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি যা জানতেন তা তাকে জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি সুযোগ পাননি।

'হস্তক্ষেপ না করতে বলা'

বিজয় পাগারে আরও বলেন, সুনীল পাতিল তার ব্যবসায় হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করেছিলেন। তাদের সব বৈঠক হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে স্যাম ডিসুজা ছিলেন।

বিজয় পাগারে বলেন, 'ক্রুজ অভিযানের আগে তিনি আমাকে বলেছিলেন- তিনি কাজ পেয়েছেন এবং আমার পাওনা পরিশোধ করবেন। আমি তখন এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। পরে, আমি বুঝতে পেরেছিলাম এই অভিযান থেকে অর্থ আসবে।'