মিজোরাম সীমান্তে সংঘর্ষে আসামের ৬ পুলিশ নিহত
ভারতের উত্তর-পূর্বের দুই রাজ্য আসাম-মিজোরাম সীমান্তে সংঘর্ষে আসামের ছয় পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী শহর বৈরেংতে এ সংঘর্ষের ঘটনায় আসামের অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এসব তথ্য জানিয়েছে।
দ্য হিন্দু জানায়, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আন্তঃরাজ্য সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তিতে মেঘালয়ের রাজধানী শিলং-এ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার দু'দিনেরও কম সময় পরে এ ঘটনা ঘটেছে।
আহতদের মধ্যে আছেন- আসামের কাছাড় জেলার পুলিশ সুপার নিম্বলকর বৈভব চন্দ্রকান্ত এবং জেলার ধোলাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা টুইট করেছেন, 'আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আসাম-মিজোরাম সীমান্তে আমাদের রাজ্যের সাংবিধানিক সীমানা রক্ষায় ছয় জন সাহসী সেনা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।'
I am deeply pained to inform that six brave jawans of @assampolice have sacrificed their lives while defending constitutional boundary of our state at the Assam-Mizoram border.
— Himanta Biswa Sarma (@himantabiswa) July 26, 2021
My heartfelt condolences to the bereaved families.
'সিআরপিএফ পোস্টে হামলা'
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী- মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালচামলিয়ানা বলেছেন, ঘটনা শুরু হয় সকাল সাড়ে ১১টায়। তখন আসামের প্রায় দুইশ জন পুলিশ কর্মী বৈরেংতের অটো-রিকশা স্ট্যান্ডে এসে 'জোর পূর্বক' সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ডিউটি পোস্ট এবং মিজোরাম পুলিশের একটি অংশ বন্ধ করে দিয়েছিল।
১৬৪.৬ কিলোমিটার আসাম-মিজোরাম সীমান্তের বিতর্কিত অংশে সিআরপিএফকে নিরপেক্ষ বাহিনী হিসাবে মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'আসাম পুলিশ জাতীয় সড়কে মিজোরামগামী কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অগ্নিসংযোগ করে। তারা আমাদের কর্মকর্তাদের কথা শোনেনি। আমাদের কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিল। পরে তারা কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আসাম পুলিশ গুলি চালায়।'
তিনি আরও বলেন, 'মিজোরাম পুলিশও আসাম পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালিয়ে জবাব দিয়েছিল। আসাম পুলিশের আগ্রাসী মনোভাব দুর্ভাগ্যজনক ছিল।'
'কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উভয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর আসাম পুলিশ ডিউটি পোস্ট সিআরপিএফের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছিল,' যোগ করেন তিনি।
তবে, আসামের কর্মকর্তারা অবশ্য মিজোরাম পুলিশ এবং টেলিস্কোপিক রাইফেল সজ্জিত বেসামরিক পোশাকধারী মানুষদের এই সহিংসতার জন্য দায়ী করেছেন।
কাচারের জেলা প্রশাসক কীর্তি বলেন, 'তারা গুলি চালিয়েছে।'
আসামের কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, তাদের দল মিজোরাম থেকে জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল।