অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে জরিমানা, বগুড়ায় ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ
বগুড়া ঠনঠনিয়া বাস স্ট্যান্ডের কাউন্টারে ঢাকাগামী যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ। এ সময় শ্যামলী কাউন্টারে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হলে সব কাউন্টার বন্ধ করে দেয় কাউন্টার কর্তৃপক্ষ।
মোটর শ্রমিকরা এসময় ম্যাজিস্ট্রেটকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই সময় ঢাকাগামী রাস্তাও অবরোধ করেন তারা। এতে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনা স্থল ত্যাগ করেন কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট।
বগুড়া বিআরটিএ -এর মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঠনঠনিয়া বাস স্ট্যান্ডে প্রতিটি কাউন্টারে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের কাজ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ বিন মুনসুর এবং বিআরটিএ এর কর্মকর্তারা সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ঘটনার সত্যতা পেয়ে শ্যামলী কাউন্টারকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শাহ ফতেহ আলী কাউন্টারে গেলে কাউন্টারের লোকজন কাউন্টার বন্ধ করে দেন। তারা রাস্তা অবরোধ করেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটসহ আমাদের প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে।'
এই বিষয়ে জানতে চেয়ে একাধিকবার ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।
বিআরটিএ -এর মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, 'বগুড়া থেকে ঢাকার বাস ভাড়া ৪৫০ টাকা। কিন্তু কাউন্টারে নেওয়া হচ্ছিল ৫৫০ টাকা। এ কারণে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়।'
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কাউন্টারের লোকজনদেরকে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিল এই অভিযোগে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। কিন্তু পরে জেলা মোটর মালিকের সাধারণ সম্পাদক এসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে নেয়।'
বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক (শাহ-ফতেহ আলী মাসের একজন মালিক) আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, 'আমার বাসের টিকেট কাটতে হয় নওগাঁ থেকে। নওগাঁ থেকে ঢাকার ভাড়া ৫৯০ টাকা। কোন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়নি।'
শ্রমিকরা কেন রাস্তা অবরোধ করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সময় রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য আমাদের ডাকা হয়েছে। আমরা রাস্তা ক্লিয়ার করার কাজে সাহায্য করেছি। অথচ এখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোর সময় আমাদের ঢাকা হয়নি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠনঠনিয়া বাস স্ট্যান্ডের একজন কর্মচারী বলেন, 'ঈদের আগে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মাস মালিকদের কথা হয়েছে যে ঈদের পরে মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত বগুড়া থেকে ঢাকা গ্রামী যাত্রীদের কাছে ৪৫০ টাকার পরিবর্তে ৫৫০ টাকা করে নেওয়া হবে। আমরা সে অনুযায়ী ভাড়া নিচ্ছিলাম। এই বিষয়ে ভ্ৰাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে চাইলে তারা মালিকদের কাছে যাক। আমরা চাকরি করি কাউন্টারে। আমাদের কেন জরিমানা করবে?'
বিষয়টি জানতে চাইলে বিআরটিএ -এর মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'এটা কখনো হতে পারে না। জেলা প্রশাসন কখনো যাত্রীদের কাছে অধিক ভাড়া আদায়ের কথা বলতে পারেনা।'