বাংলাদেশি নাবিকের মৃত্যুতে রাশিয়ার শোক 

স্টার অনলাইন ডেস্ক 

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ 'বাংলার সমৃদ্ধি'র বাংলাদেশি নাবিক হাদিসুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছে রাশিয়া। গতকাল জাহাজটি ইউক্রেনের ওলভিয়া বন্দরে নোঙ্গর করা অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। 


এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আমরা মৃত ব্যক্তির আপনজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। বন্দর থেকে বাংলাদেশি জাহাজটির নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে'।

Russia Expresses Grief over
বাংলাদেশে রুশ দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতি

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, রাশিয়া বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা যাচাই করছে। 


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে যে, পিছু হটার সময় ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালায়, ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষদের জিম্মি করে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং বহুল প্রচলিত জঙ্গি কৌশল প্রয়োগ করে থাকে।


বিবৃতিতে বিশেষ সামরিক অভিযানের কারণে কোনো ধরনের মানবিক সংকট দেখা দিলে যোগাযোগের জন্য কিছু হটলাইন নাম্বার এবং একটি ইমেল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে। কোনো বেসামরিক ব্যক্তি ইউক্রেন ছাড়তে চাইলে, সে ব্যাপারে সহযোগিতার জন্যও এই হটলাইনে যোগাযোগ করা যাবে। 
হটলাইন নাম্বারগুলো হচ্ছে +7 495 498-34-46, +7 495 498-42-11, +7 495 498-41-09 এবং ইমেল ঠিকানা হচ্ছে gumvs@mil.ru 


বাংলার সমৃদ্ধির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমোডোর সুমন মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 


তিনি জানান, জাহাজে থাকা বাকি ২৮ জন ক্রু সদস্য অক্ষত আছেন। 


গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি বল ক্লে নামক দুর্লভ খনিজ উপকরণ আনার জন্য ইউক্রেনের বন্দর ওলভিয়ায় পৌঁছায়। 


তবে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘর্ষে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বিএসসি সেই পরিকল্পনা বাতিল করে। পাশাপাশি জাহাজের মাস্টারকে বন্দরে নোঙ্গর না করে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেয়। 


তবে, বিভিন্ন কারণে জাহাজটি বন্দর ছেড়ে যেতে পারেনি। এরমধ্যে বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ায় কার্যত সেটি বন্দরে আটকা পড়ে।