‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলার আগে ফয়সালের মেসেজ: ‘আমি ভালো আছি’
'আমি ভালো আছি, চিন্তা করবেন না, আম্মুকে বলবেন ভালো আছি।' এই বার্তাটি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকে থাকা এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের নাবিক ফয়সাল আহমেদ সেতুর। বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ফয়সাল তার বাবা ফারুক আহমেদকে এই মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পরই জাহাজটিতে রকেট হামলা হয়। এর পর ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফারুক আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে এই কথা জানান। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামে তাদের বাড়ি।
ফারুক বলেন, 'শুনেছি কয়েকজনের গোলার চোট লেগেছে। তাদের মধ্যে আমার ছেলেও আছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি।'
ফয়সালের সঙ্গে তার বাবার সর্বশেষ কথা হয় গত ২২ ফেব্রুয়ারি। এর পর মেসেজ পেলেও সরাসরি কথা হয়নি। এখন তিনি চাইছেন তার ছেলের কণ্ঠ শুনতে। কিন্তু সেটি হচ্ছে না।
ফারুক বলেন, 'কথা বলার জন্য ছেলের মোবাইলে সংযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু কথা বলা যাচ্ছে না।'
তিনি জানান, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি থেকে পড়াশোনা করেছে ফয়সাল। পাস করে বের হয়ে সে গত চার মাস এই জাহাজে ইন্টার্নশিপ করছিল। কাজ করছিল ডেক ক্যাডেট হিসেবে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ফয়সাল সবার ছোট।
চার মাস আগে বাংলাদেশ থেকে বিমানে তুরস্কে যায় ফয়সাল। সেখান থেকে তিনি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে ওঠেন। বিভিন্ন দেশ ঘুরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি ইউক্রেনে যায়।
ফয়সালের বাবা ফারুক আরও জানান, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কার্যালয় থেকে লোকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
গত রোববার বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি তুরস্কের এরেগলি বন্দর ছেড়ে যায় এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের বন্দর অলিভিয়ায় পৌঁছে। সেখানে পৌঁছানোর পর ইউক্রনের পরিস্থিতির অবনতি হলে আমরা বন্দর থেকে পণ্য লোড করার পরিকল্পনা বাতিল করে দিই এবং জাহাজের মাস্টারকে অবিলম্বে বন্দর ছেড়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমায় যেতে বলি।
কিন্তু বন্দরের ছাড়পত্র পেতে কিছুটা সময় লেগেছিল এবং ততক্ষণে রাশিয়ার হামলার কারণে বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তাই জাহাজটি বন্দর ছেড়ে যেতে পারেনি।
গতকাল রকেট হামলায় জাহাজটির নাবিক হাদিসুর রহমান নিহত হন।