বিয়ে ঠিক হওয়ার পরদিন বাসচাপায় প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাতক্ষীরা

বাগদান শেষে অগ্রহায়ণ মাসে বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল শুভঙ্কর মণ্ডল শুভ ও মিতা রানী মণ্ডলের। দুই পরিবারে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। কিন্তু সেই আনন্দ আর পূর্ণ হলো না। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বিআরটিসি বাসের চাপায় প্রাণ হারান শুভ।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর লস্কর ফিলিং স্টেশনের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শুভঙ্কর মণ্ডল শুভ (৩১) খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরী গ্রামের দুর্গাপদ মণ্ডলের ছেলে। তিনি বাগেরহাটের রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্টের খুলনা অপারেশন অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শুভর মামাতো ভাই সুজিত কুমার ডেইলি স্টারকে বলেন, গতকাল সোমবার বিকেলে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে মিতা রানীকে দেখতে যান শুভ। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে অগ্রহায়ণ মাসে বিয়ের দিন ঠিক হয়। একইসঙ্গে তাদের বাগদানও সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও বলেন, রাতে মুন্সিগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকেন শুভ। আজ সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে রওনা হন তিনি। পথে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয় মুন্সিগঞ্জ থেকে খুলনাগামী একটি বিআরটিসি বাস। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে বাসটি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শুভকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সুজিত কুমার বলেন, শুভর মৃত্যুর খবরে মিতার স্বপ্নের সংসারের পরিকল্পনা মুহূর্তেই ভেঙে যায়। বিয়ের মাধ্যমে যার সঙ্গে নতুন জীবন শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন, তাকেই হারিয়ে শোকে ডুবে গেছেন তিনি।

ওসি শাফিউল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে আজ বিকেলে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বিআরটিসি বাস ও চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, নিহতের ফুফাতো ভাই সুজিত বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে থানায় এজাহার দিয়েছেন। তিনি সাতক্ষীরায় একটি মিটিংয়ে থাকায় শ্যামনগরে ফিরে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।