বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের এবার ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে’ দশা?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আবারও পিছু হটলেন মহাক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার একে একটু ভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘সর্বাত্মক হামলার সব প্রস্তুতি নেওয়া শেষ’ বলে হুমকি দিয়েছিলেন। আবার সেই সপ্তাহের শেষে তিনি পিছু হটলেন বেশ ‘অপ্রত্যাশিত’ ভঙ্গিতেই।

তাহলে এবার কি ট্রাম্পের ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে’ দশা?

মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন ইরান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছেন।

গত ২৪ জুলাই হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে তারা এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে জানায় সিএনএন।

বৈঠকের সেই রাতেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয় যে তারা ইরানে হামলায় আপাতত বিরতি টানছে। আচমকা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে বিরতি টানার পর টানা ১৩ দিন ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৪ জুলাই ট্রাম্প ইরানে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ সাময়িক নাকি স্থায়ী, তা তিনি জানাননি।

ট্রাম্পের ভাষ্য: ‘আমরা ইরানিদের সঙ্গে কথা বলছি। আমি মনে করি, দিনে দিনে তাদের উপলব্ধি আরও বাড়বে। আমরা হামলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে এখন তাদের সঙ্গে কথা চলছে।’

পরদিন হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে ইরান কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে। তবে আরও বলেন, ‘কিন্তু আমি তাদের কথা শুনতে আগ্রহী।’

খোলা চোখে এতটুকুই খবর। তবে প্রশ্ন জাগে, এই খবরের গভীরে ভিন্ন কিছু নেই তো?

গত রোববার সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়—মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন যে তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়েছে।

শুধু তাই নয়, যুদ্ধের কারণে আরও নেতিবাচক ঘটনা দেখা দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।

সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়—বিষয়টি পরিষ্কার নয় যে, যদি অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতিই দেখা যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেন প্রতি রাতে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল এবং আগামীতে আরও জোরালো হামলার হুমকি দিচ্ছে?

হোয়াইট হাউসের গণযোগাযোগ বিভাগের পরিচালক স্টিভেন চেউং এক বার্তায় বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প সবসময় কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধান করতে পছন্দ করেন। কিন্তু ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে ট্রাম্প সব ধরনের ব্যবস্থা নেবেন।’

সব কথার মূল কথা এই যে, মার্কিন সেনাপতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে নারাজ।

ইরান কি নতুন ‘ভিয়েতনাম’?

গত ২১ জুলাই লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক মতামত প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—‘ইরান যুদ্ধ: আরেকটি ভিয়েতনাম এড়াতে ট্রাম্পকে অবশ্যই নীতি বদলাতে হবে।’

প্রতিবেদনটিতে সংবাদমাধ্যমটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক ডেভিড হার্স্ট মন্তব্য করেন, তেহরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বিস্তার করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের তৈরি ফাঁদে নিজেরাই ধরা পড়ে যাচ্ছে।

‘ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ক্রমশ তৃতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে’ উল্লেখ করে এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব সুস্পষ্টভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। সেই চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।’

তার মতে, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প পুরোমাত্রায় ইরান যুদ্ধ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন।

এই মতামত প্রতিবেদনটির লেখক মনে করেন—যুদ্ধ শুরু করা ট্রাম্প ও তাকে যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—দুজনই ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজ নিজ দেশে ধিক্কৃত হয়েছেন। ট্রাম্প ধিক্কৃত হয়েছেন এমন যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার জন্য এবং নেতানিয়াহু ধিক্কৃত হয়েছেন তাকে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার জন্য।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়—ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সামনে নির্বাচন। তারা তেহরানের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তারা নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই ধরা পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রধান শত্রু ইরানকে ‘ধ্বংস’, ‘অকেজো’ ও ‘মাটিতে মিশিয়ে ফেলার’ দাবি করলেও ইরান তাদের সেসব দাবিকে ‘মিথ্যা’ প্রমাণ করেছে। এখন এই দুই সামরিক ক্ষমতাধর দেশের নেতাদের জন্য ইরানে সব হামলা বন্ধ করে সেখান থেকে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই বলে মনে করছেন ডেভিড হার্স্ট।

প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়—গত ১৩ দিনের যুদ্ধে ইরানের হামলায় প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। জর্ডান ও ইরাকে ৪ মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। জর্ডানে কয়েকটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।

আরও জানানো হয়—সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সামরিক ঘাঁটিতে থাকা ৫০ হাজার সেনার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ পেন্টাগন।

ফিরে আসা যাক সিএনএনের সেই প্রতিবেদনটিতে।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়—ট্রাম্প প্রকাশ্যে যতই বলুন না কেন যে তিনি ইরানের ওপর সর্বশক্তি নিয়ে হামলার জন্য প্রস্তুত, বাস্তবে তিনি তার সমঝোতাকারীদের বলছেন, ‘আলোচনা চালিয়ে যাও।’

প্রতিবেদনটিতে আবারও সেই অস্ত্রভাণ্ডারের প্রসঙ্গ তুলে জানানো হয়—‘ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন ও অন্যান্য শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে এর ফলে তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়তে পারে।’

বৈশ্বিক তেলের বাজারে আবারও ‘আগুন’

ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেন নিজের দেশের জনগণের ওপরই হামলা করে বসেছে। দেশটির তেলের মজুদ গত ৪০ বছরে সর্বনিম্ন। বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানির দাম।

গতকাল রোববার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে হলেও সেই যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে মার্কিনিদের পকেট। যদিও যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশ ইরান থেকে প্রায় ১১ হাজার ৬৫৭ কিলোমিটার দূরে।

এতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে।

গত এক সপ্তাহে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম গড়ে ১৫ সেন্ট বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক শূন্য ৯ ডলার।

২০২৫ সালের তুলনায় তা প্রায় ১ ডলার বেশি।

গত ২৩ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, নতুন করে ইরানে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়—ইয়েমেনের হুতি বাহিনী লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকারে হামলার দাবি করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

এতে আরও বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোয় ইরানের পাল্টা হামলার দরুন বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন করে ‘আগুন’ লেগেছে। এমন বাস্তবতায় লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা সার্বিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর করে তোলার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।

লোহিত সাগরে হুতি হামলার সংবাদ আসার পর জ্বালানির দাম বাড়লেও বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারে দরপতন শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গত ২ সপ্তাহ আগে ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার কারণে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপক হারে কমে গেছে।

এমন বাস্তবতায় বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেলে তা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলবে।

এবিসি নিউজ আরও জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে বিকল্প পথে লোহিত সাগর দিয়ে তেল সরবরাহ শুরু করেছিল।

কিন্তু গত ২২ জুলাই সেখানে হুতি হামলার সংবাদ আসায় এই জলপথ দিয়েও জাহাজ চলাচল বন্ধের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৪ জুলাই লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, সেদিন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলার ৭০ সেন্ট।

অর্থাৎ, ইরানে হামলা বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার থেকে একটু নেমে যায়।

বিশ্ববাসী ইতোমধ্যে জেনে গেছে যে বিশ্ববাজারের পণ্যের দামের ওঠানামার লাগাম এখন পুরোপুরি ট্রাম্পের হাতে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বলে ওঠা ‘আগুন’ নেভানোর দায় এখন যে তার হাতেই ন্যস্ত, তা তার ঘনিষ্ঠজনরা আরও জোরেশোরে প্রকাশ করছেন।

অনিশ্চয়তা কাটবে কি?

সমালোচকরা বলছেন—ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে ‘আর কোনো যুদ্ধ’ নয় বলে ভোটের প্রচারণা চালালেও ক্ষমতায় এসে তিনি ইরানের সঙ্গে এক অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধে জড়িয়েছেন।

যুদ্ধে তিনি নিজেকে বারবার ‘বিজয়ী’ ঘোষণা করার পরও ইরানে হামলা বন্ধ করছেন না।

শুধু তাই নয়, ‘দুই-এক দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হবে’ বললেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ ৫ মাসেও শেষ হচ্ছে না।

তিনি ইউরোপে বিশ্বনেতাদের সামনে ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেও সেখান থেকে সরে আসতে ৬ দিনের বেশি সময় নেননি।

বারবার ট্রাম্প নিজের কথা থেকে সরে আসায় এবারের ‘যুদ্ধ বন্ধের’ ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

গত ২৫ জুলাই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করে—‘শত্রু পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করলে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়ে যাওয়া হবে।’

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান তার সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ভবিষ্যতের যেকোনো হামলার জবাব দিতে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ’ আনা হচ্ছে।

সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, তারা মার্কিন হামলায় নিহত প্রতি বেসামরিক ইরানির জন্য একজন করে মার্কিন সেনা হত্যার নীতি হাতে নিয়েছে।

একই দিনে সংবাদমাধ্যমটির অপর এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—‘যেভাবে দুই দিক দিয়েই সৌদি আরবকে ফাঁদে ফেলেছে ইয়েমেন’।

এতে বলা হয়—নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইয়েমেনি বাহিনী (হুতি যোদ্ধা) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু এলাকায় আরামকোর তেল শোধনাগারে ইয়েমেনি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

একই দিনে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ট্রাম্প আপাতত ইরানে হামলা বন্ধ রাখলেও তেল আবিবের বিশ্বাস, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

তারা আরও বিশ্বাস করে যে ইরান যুদ্ধ বন্ধের কূটনীতি ব্যর্থ হবে। ট্রাম্প এবার ইরানে ব্যাপক হারে হামলার নির্দেশ দিতে বাধ্য হবেন। তিনি সর্বাত্মক যুদ্ধ চান। তবে সমঝোতার জন্যও সময় দিতে চান।

শেষ কথা

গতকাল রোববার সিএনএনের অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম ইরান যুদ্ধ এক দলের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।

এতে বলা হয়—কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যরা ইরান যুদ্ধে ‘না’ বলেছেন। মার্কিন ইতিহাসে কোনো যুদ্ধের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের এমন বার্তা এই প্রথম। তারা ইরান যুদ্ধের খরচ বহনে নারাজ।

ডেমোক্র্যাট সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিও তুলছেন।

তাই ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে শুধু তার নিজের রিপাবলিকান পার্টির সমর্থন নিয়ে।

তাহলে মহাক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতি এখন কি ঘরে-বাইরে তথা সব দিক থেকে নিজেই নিজের ফাঁদে ধরা পড়ছেন?