কোনো শ্রেণি-পেশা-ধর্ম-বর্ণের কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে নেই: অর্থমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সব শ্রেণি, পেশা, ধর্ম বা বর্ণের সবাই বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আওতার ভেতরে আছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'বাজেট প্রক্রিয়া বাংলাদেশে ছয় মাসের একটি কর্মযজ্ঞ। সে জায়গায় আমরা দেড়-দুই মাসের মধ্যে একটা বাজেট প্রস্তুত করেছি। এজন্য যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয়েছে, তারপরেও সবার সহযোগিতায় সে কাজটা আমরা করেছি। কতটুকু পেরেছি সেটা দেশের জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নেবেন।'

তিনি বলেন, 'এই বাজেটের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন ছিল। দীর্ঘ একটি ফ্যাসিস্ট রেজিম, তারপর অন্তর্বর্তী সরকার। এই সময়টাতে বাজেটের সত্যিকার কার্যক্রম, জনগণের চিন্তার প্রতিফলন, সেই বিষয়গুলো বিগত বহু বছর ধরে দেশবাসী মিস করেছে।'

'বাজেট বলতে মূলত জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনের কথা বলি। আমাদের সংবিধানও বলা হয়েছে জনগণের ইচ্ছায় জনগণের সম্মতিতে দেশ চালাতে। বহুদিন পর দীর্ঘ সংগ্রামের পর সবার অবদানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। একটি নির্বাচিত সরকার আমরা পেয়েছি এবং বিএনপি সরকার গঠন করেছে,' বলেন অর্থমন্ত্রী।

'এই সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক' জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, 'সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আমরা চেষ্টা করেছি সবার সঙ্গে কথা বলতে, সবার মতামত নিতে। যতটুকু সম্ভব আমরা পুরোপুরিভাবে চেষ্টা করেছি।'

'এই বাজেটের প্রেক্ষাপটটা এজন্য একটু ভিন্ন যে, সত্যিকার অর্থে আমাদের বাজেট চিন্তায় ছিল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে নিয়ে আসার। তাদের জীবনযাত্রার মান তাদের ভবিষ্যৎ সবসময় বাজেটে প্রতিফলিত হয় না। এবারের বাজেটে আমরা চেষ্টা করেছি সবাইকে আনার। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে কোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্ম, বর্ণের কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমি মনে করি না,' বলেন মন্ত্রী আমির খসরু।

তিনি আরও বলেন, 'দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় দেশের সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে, অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় চলে গেছে। রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে উচ্চ-আকাঙ্ক্ষা এবং সবাইকে একটা ইনক্লুসিভ বাজেট করার চেষ্টা করেছি।'

'প্রতিটি মানুষকে এই বাজেটের আওতায় আনার জন্য আমাদের স্লোগান ছিল এরকম যে, অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করা। এই প্রেক্ষাপটটা আরও বেশি ধারণ করতে হয়েছে, কারণ আগে অর্থনীতিটা ছিল পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি, কিছু মানুষের জন্য অর্থনীতি, কিছু গোষ্ঠীর জন্য অর্থনীতি অথবা কিছু অর্গানাইজ গ্রুপের জন্য অর্থনীতি। যে মানুষগুলো অর্গানাইজ না, যারা পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি, যারা অর্থনীতির ভাবনার বাইরে ছিল, আমরা এই মানুষগুলোকে আনার চেষ্টা করেছি এবং সবার জন্য এই বাজেটে দিয়েছি,' যোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, 'আমাদের এই সীমিত সম্পদের মধ্যে সবার জন্য কম-বেশি বরাদ্দ দেওয়া আছে, প্রোগ্রাম দেওয়া আছে এবং রোডম্যাপ দেওয়া আছে। শুধু পলিসি বা নীতিমালা নয়, আমরা রোডম্যাপও দিয়েছি। এটা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমাদের কী করতে হবে, সেটাও পরিষ্কারভাবে বলা বলা হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আপনারা জানেন জ্বালানি খাতে বড় অভিঘাত এসেছে। তাছাড়া আগের যা আমরা ইনহেরিট করেছি, সেই প্রেক্ষাপটে বাজেট করতে গিয়ে সবার কথা মাথায় রেখে সবার জন্য বাংলাদেশ বা অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের মৌলিক নৈতিক ভিত্তি আমাদের বিবেচনায় ছিল।'

'আমরা একটা কথা বারবার বলেছি, আমাদের প্রত্যেকটি ব্যয়ের পেছনে চারটা ক্রাইটেরিয়া আছে। একটা হচ্ছে ভ্যালু ফর মানি, একটা রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট, একটা জব ক্রিয়েশন, আরেকটা এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন। এই চারটি শর্তের ওপর ভিত্তি করে আমরা আগামী দিনের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছি,' যোগ করেন তিনি।