পুরোনো মালিকদের হাতে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

স্টার বিজনেস রিপোর্ট

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এআইবিএল) নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকটির আগের মালিক ও শেয়ারধারীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১৪ জন পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নতুন পর্ষদে বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি ফিরে এসেছেন প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুর রহমান ও তার সহযোগীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এটি প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগের তুলনায় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাই এটি প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আরও কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি অথবা তারা ব্যাংকের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন না।

তিনি বলেন, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তারা রয়েছেন, তাই ব্যাংকটি তাদের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নতুন পর্ষদ, পুরোনো মুখ

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আগের পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক বহাল রয়েছেন।

এর পাশাপাশি সাবেক ১৪ জন সদস্যকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী ও এনায়েত উল্লা।

এছাড়া কেডিএস গার্মেন্টসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে শরীফ উদ্দিন তসলিমকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফিরে আসা পরিচালকদের মধ্যে খলিলুর রহমান বর্তমানে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আইন অনুযায়ী একই ব্যক্তি একসঙ্গে কোনো ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারেন না। তাই আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে যোগ দিতে তাকে ওই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে বেসরকারি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০২৩ সালে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তিনি দেশ ছাড়েন এবং ব্যাংকটির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ হারান।

এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। তখন লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে এরপরও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে এবং গত দুই বছরে কোনো নগদ লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংকটির শেয়ার 'জেড' শ্রেণিতে নেমে যায়।

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলেও অন্য নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলো থেকে গ্রুপটি বিপুল অর্থ পাচার করেছে বলে অভিযোগ আছে। তবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি নয়।

গত বছর ব্যাংকটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

একই সময়ে ব্যাংকটির আমানত ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ৪৮ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

তবে খেলাপি ঋণ ১৯ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৮৫২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ১৭ শতাংশ।

বছর শেষে ব্যাংকটির সম্পদের বিপরীতে মুনাফার হার (রিটার্ন অন অ্যাসেটস) ছিল শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ এবং নিট মুনাফার মার্জিন ছিল ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।