কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, কৃষকের নতুন দুশ্চিন্তা স্রোতে ভেসে আসা বালু

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। বন্যা দুর্গত গ্রামগুলোতে পানি কমতে শুরু করেছে।

তবে কৃষকের নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্রোতে ভেসে আসা বালু।

আজ বুধবার সকাল ৯টায় কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে
প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার।

ছবি
ছবি: এস দিলীপ রায়/স্টার

একই সময়ে জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, গঙ্গাধর ও জিনজিরাম নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পাউবো সূত্র জানায়, নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে দুধকুমার নদের ডানতীরে ৩ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ
তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে ২ হাজার ৮০০ মিটার কাজ শেষ হয়েছে। তবে আদর্শপাড়া
এলাকায় জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় অবশিষ্ট ৩০০ মিটার অংশে বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রবল স্রোতে এই অংশে থাকা পুরোনো বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি গ্রাম
প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ওই অংশে গতকাল বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রামগুলোতে নতুন করে পানি প্রবেশ করেনি।

ছবি
ছবি: এস দিলীপ রায়/স্টার

তেলানীর কুটি গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাড়িতে পানি উঠেছিল, আজ সকাল থেকে নামতে শুরু করেছে।’ ষাটোর্ধ্ব এই কৃষক আরও বলেন, তার ৬ বিঘা আবাদি জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নদীর স্রোতে বিপুল পরিমাণ বালু ভেসে এসেছে। পানি নেমে গেলেও এসব জমিতে আর ফসল ফলানো সম্ভব হবে না। কৃষকের পক্ষে নিজের খরচে এত বালু সরানো প্রায় অসম্ভব।’

এ সময় সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন আকবর।

একই পরিস্থিতি সেনপাড়া, মিয়াপাড়া ও আদর্শপাড়া গ্রামের। সেনপাড়া গ্রামের কৃষক সুভাষ চন্দ্র সেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘অবশিষ্ট ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়ে গেলে তাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।’

এই গ্রামের সড়ক এখনো পানির নিচে রয়েছে। সুভাষ বলেন, ‘আমার দুটি পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে।’

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি বলেন, ৩০০ মিটার অংশে বাঁধ না থাকায় লোকালয়ে পানি ঢুকে বামনডাঙ্গা, আদর্শপাড়া, মিয়াপাড়া, তেলানীর কুটি, সেনপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

‘এখনো বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি পানির নিচে রয়েছে। প্রবল স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ কাঁচা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশির ভাগ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধসংলগ্ন কয়েকটি গ্রামের মানুষ এখনো পানিবন্দি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত দেড় হাজার পরিবার। এসব এলাকায় পানি নামতে আরও কিছুটা সময় লাগবে,’ যোগ করেন তিনি।

ছবি
ছবি: এস দিলীপ রায়/স্টার

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, স্থানীয়দের বাধার কারণে ঠিকাদার
অবশিষ্ট ৩০০ মিটার বাঁধের কাজ শেষ করতে পারেননি।

‘দুধকুমারের পানি বাড়লেই পুরোনো নিচু ও সরু বাঁধ উপচে গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে দ্রুত অবশিষ্ট ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আজ সকাল থেকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। উপদ্রুত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।’

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়ায়
সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, ‘অরক্ষিত অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩০০ মিটার বাঁধ দ্রুত নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাঁধটির কাজ শেষ হলে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম দুধকুমারের আকস্মিক বন্যা থেকে স্থায়ী সুরক্ষা পাবে।’