৪৩ লাখ টাকার স্কুল ভবন রক্ষায় পাউবোর ব্যয় ৪৫ লাখ, তবু কাটেনি ভাঙন ঝুঁকি

মোস্তফা সবুজ
মোস্তফা সবুজ

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় যমুনার ভাঙন থেকে একটি স্কুল ভবন রক্ষায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবু কাটেনি ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা।

বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত পূর্ব সুজাইতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ৪৩ লাখ টাকা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রশিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এই বিদ্যালয় ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত। সে সময় নদী অনেক দূরে ছিল।’

‘প্রতি বছর নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন একদম বিদ্যালয়ের সীমানায় পৌঁছেছে। গত মে মাস থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে,’ বলেন তিনি।

নদী ভাঙন

রশিদ জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে ৪০ জনই ছাত্রী।

তার মতে, ‘ভাঙনের কারণে এই এলাকার ২৫০ থেকে ৩০০ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। বিদ্যালয়টি যদি ভাঙন থেকে রক্ষা করা যায়, তাহলে আগের শিক্ষার্থীরা আবার ফিরে আসতে পারে।’

ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পাউবো বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এভাবে বিদ্যালয় রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

তারা বলছেন, পানি কমে গেলে ভাঙন আরও তীব্র হবে এবং স্কুল ভবনটি যমুনায় বিলীন হয়ে যেতে পারে।

পূর্ব সুজাইতপুর গ্রামের বাসিন্দা শামীম রেজা বলেন, নদীর তীরে কংক্রিট ব্লক দিয়ে বাঁধ দিলেই কেবল এই বিদ্যালয় রক্ষা করা সম্ভব। সেই সঙ্গে এই গ্রামের তিন হাজার মানুষের বসতবাড়ি রক্ষা পাবে।

বিদ্যালয় রক্ষায় ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক লিপন। তিনি বলেন, এখনো কাজ চলছে। ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে ১৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

নদী ভাঙন

যোগাযোগ করা হলে পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা সাধারণত চরাঞ্চলে কাজ করি না। তবে বিষয়টি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের আগ্রহ থাকায় সেখানে জিওব্যাগ ফেলে বিদ্যালয় রক্ষার কাজ চলছে।’

ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ওই বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ১০০ থেকে ১২৫ মিটার ভাঙনকবলিত এলাকায় তিনজন ঠিকাদার কাজ করছেন। সুনির্দিষ্ট করে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আমাদের ধারণা, জিওব্যাগ বাবদ ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।’

‘কাজ শেষে একাধিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঠিকাদারদের অর্থ পরিশোধ করা হবে,’ যোগ করেন তিনি।

জিওব্যাগের পরিবর্তে কংক্রিট ব্লক দিয়ে স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে এই প্রকৌশলী বলেন, ‘নদীর ভেতরে এ ধরনের কাজ করা কঠিন। এখানে কংক্রিট ব্লক দিয়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে গেলে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ কোটি টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত আমরা জিওব্যাগ ফেলে বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষার চেষ্টা করছি।’