বন্যা ঝুঁকি কমাতে ৪ হিমবাহ হ্রদের পানি কমাবে নেপাল
প্রাণঘাতী বন্যার ঝুঁকি কমাতে চলতি অর্থবছরেই হিমালয়ের চারটি হিমবাহ হ্রদের পানি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে নেপাল। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতসহ ভাটির দেশগুলোর মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতেও উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটি।
আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য ও পূর্ব নেপালের থুলাগি, লোয়ার বারুন, হংগু–২ ও লুমডিং সো—এই চার হ্রদের পানি কমাতে এ বছরই নকশা তৈরি ও সমীক্ষার কাজ শুরু করবে নেপাল।
এ প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা নেপালের জলবিদ্যা ও পানিসম্পদ গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ সুবাশ তুলাধর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো হ্রদগুলোর প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং ভাটি অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি কমানো।’
তিনি আরও বলেন, খাল তৈরি করে নিয়ন্ত্রিতভাবে হ্রদের পানি আশপাশের নদীতে প্রবাহিত করা হবে।
৫ কোটি ডলারের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নেপালের রয়েছে বলে জানান ওই বিশেষজ্ঞ।
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, ইউএনডিপি ও নেপাল সরকার প্রকল্পটির অর্থায়ন করবে।
দেশটির জলবিদ্যা ও পানিসম্পদ গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সঞ্জীব বরাল জানান, পুরো প্রকল্প শেষ হতে ছয় বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় সেন্সর স্থাপন, বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হদ্রগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কমপক্ষে প্রায় ৪ হাজার ৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
২০২০ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ হ্রদগুলোর মধ্যে এই চারটি রয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের হিমবাহগুলো গলতে শুরু করেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে নতুন হ্রদ তৈরি হচ্ছে, যেগুলোর পানি পাথর ও বরফের প্রাকৃতিক বাঁধে আটকে আছে। যেকোনো সময় এসব বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। নেপালের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারতসহ ভাটির অঞ্চলও এ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
আইসিআইএমওডির সাবেক কর্মকর্তা ও হিমবাহ হ্রদ বিশেষজ্ঞ রত্ন বজ্রাচার্য রয়টার্সকে বলেন, ‘হ্রদগুলো দ্রুত বড় হচ্ছে। ভূমিকম্প, তুষারধস এবং মানুষের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে যেকোনো সময় এসব হ্রদের পানি উপচে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।’
তবে হ্রদের পানির উচ্চতা ৩ মিটার কমালে ঝুঁকি কমে যাবে বলে জানান তিনি।
গত আগস্টে নেপালে হিমবাহ হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে দেশটিতে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও হাজারো মানুষ।