‘সকাল থেকে তেলের লাইনে...বিকেল পর্যন্ত পাইনি’
এক ফিলিং স্টেশন থেকে অন্যটায় ছুটে বেড়িয়েছেন। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাননি। মোটরসাইকেলের তেল নিতে কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে এমন অনিশ্চয়তায় পড়ে আক্ষেপ করছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর এলাকার মির্জা পেট্রল পাম্পের সামনে দেখা হয় তার সঙ্গে। দ্য ডেইলি স্টারকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মী বলেন, 'তেল দিচ্ছে —এমন খবর পেয়ে অফিস থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসি। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো আমার পালা আসেনি।'
তিনি জানান, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের চাকরি করেন তিনি। প্রতিদিন তার ২ থেকে আড়াই লিটার পেট্রল বা অকটেন প্রয়োজন হয়।
'ঈদের আগের দিন শেষবার তেল পেয়েছিলাম। এরপর থেকে তেল সংকটের কারণে ইজিবাইকে চলাচল করছি,' বলেন আবু বকর।
চলমান জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধানের সমাধান না হওয়ায় ঠাকুরগাঁও জেলার মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী ও পেট্রলচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহারকারীদের এমনই অবস্থা।
সারাদিনে সদর উপজেলার ৭টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।
ফারাবাড়ি গ্রামের তিন কৃষককে দেখা যায় পেট্রলচালিত পানি উত্তোলনের মিনি পাম্প সঙ্গে নিয়ে সাইকেলে শহরের দিকে যাচ্ছেন। জিজ্ঞাসা করতেই জানা গেল, যাচ্ছেন তেলের সন্ধানে।
তাদের একজন কৈলাশ চন্দ্র বর্মন (৪৫) ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পেট্রলের অভাবে বোরো খেতে সেচ দিতে পারছি না। ডিজেলচালিত পাম্প যাদের আছে তারা ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি পাচ্ছে। কিন্তু আমরা সমস্যায় আছি।'
ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক কৃষক দিনেশ চন্দ্র বলেন, 'প্রতিদিন কাজের সময় কাজ বাদ দিয়ে তেলের জন্য দৌড়ানো কি সম্ভব?'
বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, অনেক কৃষক পেট্রলচালিত সেচযন্ত্র নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। পেট্রলের ঘাটতির কারণে তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন।
জানতে চাইলে জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাক আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কিছু করার নেই, ডিপো থেকে প্রয়োজনের অর্ধেক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।'
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম ফেরদৌস বলেন, 'গতকাল জেলার ১৬টি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি এসেছে এবং আজ সকাল ৯টা থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি ফিলিং স্টেশন সদর উপজেলায়। ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সেচকাজে জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।'
আগামী ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড চালু হলে সংকট কিছুটা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁও জেলায় মোট ৩৫টি ফুয়েল স্টেশন ও ৪টি ডিলার পয়েন্ট রয়েছে, যেগুলোতে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি আসছে।