জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বরাদ্দ কমল সিএমপিতে

 এফ এম মিজানুর রহমান
এফ এম মিজানুর রহমান

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বাজেটের ওপর চাপ কমাতে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) যানবাহনে তেলের বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে সিএমপি। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে ডিউটি ও অন্যান্য দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের তেলের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে এ ধরনের বরাদ্দের আবেদন গ্রহণও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিএমপির যানবাহন শাখার (এমটি) তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারদের জন্য আগে মাসে ৪০০ লিটার অকটেন বা পেট্রল বরাদ্দ ছিল। বর্তমানে তা কমিয়ে সর্বোচ্চ ২০০ লিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে।

উপকমিশনারদের (অপারেশনাল) জন্য আগে মাসে ৩৭৫ লিটার তেল বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ২৬৩ লিটার করা হয়েছে।

নন-অপারেশনাল ইউনিটের ডিসিরা (ডিসি-এমটি, ডিসি-এস্টেটসহ অন্যান্য) আগে মাসে ৩০০ লিটার পেলেও এখন সর্বোচ্চ ২১০ লিটার বরাদ্দ পাচ্ছেন।

একইভাবে অপারেশনাল ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনারদের (এডিসি) জন্য আগে ৩০০ লিটার অকটেন বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ২১৭ লিটার করা হয়েছে। নন-অপারেশনাল ইউনিটের এডিসিদের মাসিক বরাদ্দ ২৫০ লিটার থেকে কমিয়ে ১৭৫ লিটার করা হয়েছে।

জোনাল ট্রাফিকের সহকারী পুলিশ কমিশনারদের (এসি) জন্য আগে ৩০০ লিটার বরাদ্দ থাকলেও এখন তা ২১০ লিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে। বন্দর জোনের এসি কর্ণফুলীর বরাদ্দ ৩৫০ লিটার থেকে কমিয়ে ২৪৫ লিটার করা হয়েছে। অন্য অপারেশনাল ইউনিটের এসিদের বরাদ্দও ২৫০ লিটার থেকে কমিয়ে ১৭৫ লিটার করা হয়েছে।

কর্ণফুলী থানা ছাড়া বাকি ১৫ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) জন্য আগে ৪০০ লিটার অকটেন বরাদ্দ ছিল, যা বর্তমানে ২৮০ লিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে। কর্ণফুলী থানার ওসি আগে ৪৬০ লিটার তেল পেলেও এখন পাচ্ছেন ৩২২ লিটার।

২০১৪ সালের আগে সিএমপিতে যুক্ত হওয়া মোবাইল পার্টির গাড়িগুলোর জন্য আগে ৪৭০ লিটার বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে তা ৪২০ লিটার করা হয়েছে। ২০১৪ সালের পর যুক্ত হওয়া নতুন মোবাইল টহল গাড়ির বরাদ্দ ৪৫০ লিটার থেকে কমিয়ে ৪০০ লিটার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা বিভাগের ৪ জোনের মোবাইল পার্টির জন্য নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ লিটার, যা আগে ছিল ৪০০ লিটার। হাইওয়ে পেট্রলের বরাদ্দ ৫০ লিটার কমিয়ে ৭৫০ লিটার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট, টিএসআই ও এএসআইদের জন্য আগে ৫০ লিটার বরাদ্দ থাকলেও এখন তা কমিয়ে ৩৫ লিটার করা হয়েছে। ট্রাফিক টিআইদের অকটেন বরাদ্দও ৬০ লিটার থেকে কমিয়ে ৪২ লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওসি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের অনেক গাড়ি পুরোনো। এগুলো চালাতে অনেক বেশি তেল লাগে। তেলের বরাদ্দ কমলে স্বাভাবিকভাবেই কাজে কিছুটা প্রভাব না চাইলেও পড়তে বাধ্য।’

‘তবে তেল যেন বেশি না লাগে, আমরা সেদিকে খেয়াল রেখেই কাজ করছি’, বলেন তিনি।

এমটি শাখা সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত গাড়ি সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য জ্বালানি বরাদ্দ চেয়ে করা অনেক আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন পরিদর্শক থেকে কনস্টেবল র‍্যাংকের সদস্যরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিদর্শক ডেইলি স্টারকে বলেন, নতুন করে আবেদন করা হলেও বর্তমানে সব ধরনের আবেদন বন্ধ থাকায় জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনে ডিউটি পালন করতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, বিভিন্নভাবে যতটা সম্ভব জ্বালানি সাশ্রয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। নন-অপারেশনাল ইউনিটে বরাদ্দ কমানো হলেও অপারেশনাল কাজে তেমন কমানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে জ্বালানি বরাদ্দ ও এর ব্যবহার সমন্বয় করছি। তবে অপরাধ দমন কিংবা অন্যান্য অপারেশনাল কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। এতে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।।